কৌশলে মা-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। তারপর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি জেগে ওঠে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বঁটি দিয়ে প্রথমে মেয়েকে ও পরে মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এক পাষণ্ড। গত পয়লা জানুয়ারি জামালপুরে নির্মম এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার (৮ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে খুনি আনোয়ার হোসেনকে।
রবিবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এলআইসি (ল'ফুল ইন্টারসেপশন) শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
তিনি জানান, গত ১ জানুয়ারি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় নিজ ঘরের পৃথক কক্ষ থেকে মোছা. জয়ফুল বেগম (৫০) ও তার মেয়ে মোছা. আকলিমা আক্তার ওরফে স্বপ্নার (৩২) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। জয়ফুল বেগমের ওমান প্রবাসী দুই ছেলে মো. হাসান চৌধুরী (২৮) ও মো. খালেক চৌধুরী (২৬) ওমান থেকে ফোন করে তাদের মা-বোনকে না পেয়ে মামা মো. মানিক মিয়াকে বাড়িতে পাঠান। তাদের মামা বাড়িতে গিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে পৃথক দুটি কক্ষে তার বোন ও ভাগ্নির গলাকাটা মৃতদেহ দেখতে পায়। এ ঘটনায় ভিকটিম জয়ফুল বেগমের ভাই মো. মানিক মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, মা-মেয়েকে নিজ ঘরে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর লাশ ঘরে রেখে বাইরে জিআই তার দিয়ে আটকিয়ে খুনির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার পাশাপাশি সিআইডির এলআইসি শাখা ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাটি কেন এবং কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, কারও সঙ্গে পারিবারিক বা ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল কিনা, এসব প্রশ্নের উত্তর ভিকটিমের পরিবার, ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে তথ্য উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করে মো. আনোয়ার হোসেনের (৩৬) সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়া যায়। আনোয়ারকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল থেকে শনিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার ঘটনা স্বীকার করে জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে নারায়ণগঞ্জে অবস্থানকালে ভিকটিম স্বপ্নার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার স্বপ্নার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা চালায়। তবে স্বপ্নার অসম্মতির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। প্রায় ২০-২৫ দিন ধরে স্বপ্নার বড় ভাই মো. জহুরুল চৌধুরীর বাড়িতে নির্মাণকাজ করে আসছিল আনোয়ার ।
ঘটনার দিন স্বপ্না তার ও মায়ের প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছিল। কাজ শেষে সন্ধ্যার পর আনোয়ার বাড়িতে গিয়ে স্বপ্নার সঙ্গে গল্প করতে থাকে। তখন আনোয়ারকে ওষুধ আনতে পাঠায় স্বপ্না। রাতের খাবারের পর আনোয়ারের কাছে ওষুধ চাইলে মাথাব্যথার ওষুধ বলে ৬টি ঘুমের ট্যাবলেট দেয় সে।
স্বপ্না ও তার মা ওষুধ খেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে একই রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। তখন আনোয়ার হোসেন যৌন সম্পর্ক করতে স্বপ্নাকে কোলে করে পাশের রুমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে স্বপ্না জেগে যায়। তখন স্বপ্না প্রাণপণে বাধা দেয়। ব্যর্থ হয়ে আনোয়ার ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে প্রথমে স্বপ্না এবং পরে মা জয়ফুল বেগমকে গলা কেটে হত্যার পর পালিয়ে যায়।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, আনোয়ারকে জামালপুরের মেলান্দহ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।









