খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় এক গৃহবধূ ও তার ৪ মাস বয়সী শিশু কন্যাকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহবধূর স্বামী সোলেমান হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতারের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, রামগড়ের ২ নং পাতাঝরা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার পিংকি এবং সালমা আক্তার জান্নাত নামে চার মাস বয়সী কন্যাশিশুর কম্বলে পেঁচানো গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ওইদিনই পিংকির বাবা আব্দুল খালেক দুলাল এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রামগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সোমবার ১০ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানা এলাকা থেকে সোলেমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোলেমান এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। মুক্তা ধর বলেন, যৌতুকের কারণে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সে পরকীয়া আসক্ত হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হলে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী ও চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে সে।
গ্রেফতারকৃত সোলেমান গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে অপারেটর হিসেবে কাজ করতো। ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে পিংকির সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর সে গ্রামের বাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতো।
জিজ্ঞাসাবাদে সে সিআইডিকে আরও জানায়, ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গৃহস্থলির কাজে ব্যবহৃত ধারালো দা দিয়ে তাদের গলাকেটে কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে ঘরের মেঝেতে রেখে ঘরে তালা দিয়ে সে পালিয়ে যায়।









