রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাজেদুল হক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ছয় জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। অভিযোগপত্রে ২৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন মর্তুজা রায়হান চৌধুরী, মোসা. নুহাত আলম তাফসীর, ফারজানা জামান নেহা, শাফায়েত জামিল, মো. রিয়াজ উদ্দিন ও নুরুল আমিন।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর একটি পার্টিতে মদপানের পর রহস্যজনক মৃত্যু হয় ওই শিক্ষার্থীর। এ ঘটনায় মামলা করেন নিহত তরুণীর বাবা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ২৮ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় মর্তুজা রায়হান ওই তরুণীকে নিয়ে মিরপুর থেকে আসামি আরাফাতের বাসায় যান। আরাফাতের বাসায় স্কুটার রেখে আরাফাত, ওই তরুণী ও রায়হান উবারে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে আগে থেকেই আরেক আসামি নেহা এবং একজন সহপাঠী (তরুণ) উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আসামিরা ওই তরুণীকে জোর করে ‘অধিক মাত্রায়’ মদপান করান।
এজাহারে বলা হয়েছে, মদপানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী অসুস্থ বোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে তার এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুহাতের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তরুণীকে একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে রায়হান। এ সময় রায়হানের বন্ধুরাও রুমে ছিল। তাদের চোখের সামনেই ধর্ষণ করা হয়।
ধর্ষণের পর রাতে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খান কোকোকে ফোন দেয়। সেই বন্ধু পরদিন এসে ওই তরুণীকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুই দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত বছরের ৩১ জানুয়ারি তরুণী মারা যান।









