রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাটে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাইফা রহমান মিমকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বনজ কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাইফা রহমান মিমকে পিবিআই স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডি ৭/এ নম্বর সড়কের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই বনশ্রী কার্যালয়ে নেওয়া হয়। মিম চাঞ্চল্যকর এই মামলার ৬ নম্বর আসামি। মামলা দায়েয়ের সময় তিনি আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দেশে ফেরেন। মুনিয়ার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আসামিকে রিমান্ডে আনা হাতে পারে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআই কর্মকর্তারা। জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া সাইফা রহমান মিম চট্টগ্রামের হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর সাবেক স্ত্রী।
উল্লেখ্য, মুনিয়া মিরপুরের একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত শফিকুর রহমান। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদরের দক্ষিণপাড়া উজির দিঘি এলাকায়। তিনি গুলশান দুই নম্বর এভিনিউর ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর প্লটের বি/৩ ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। গত বছরের ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া ‘আত্মহত্যা’য় প্ররোচনার অভিযোগ এনে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অব্যাহতি পান সায়েম সোবহান আনভীর।
পরে গত ৬ সেপ্টেম্বর নুসরাত জাহান বাদী হয়ে মুনিয়াকে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরসহ আট জনকে আসামি করা হয়। আদালত গুলশান থানা পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।









