করোনাভাইরাসের কারণে বইমেলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি। মঙ্গলবার (১৫ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেহেতু দেরিতে শুরু হলো তাই বইমেলা এক মাস করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় খুশি লেখক, প্রকাশক ও পাঠক সমাজ।
করোনার কারণে গতবছর দু-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল প্রতিষ্ঠানকেই গুনতে হয়েছে লোকসান। আর তাই এবার প্রকাশকরা আশা করছেন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার। অভ্র প্রকাশের মালিক ও কবি সমা খান বলেন, এটি আমাদের দাবিই ছিল। যেহেতু মুজিববর্ষের সময় বাড়ানো হয়েছে, সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ পর্যন্ত যেন বইমেলাটা হয়। তাহলে গত দুই-তিন বছর যে মন্দা অবস্থার মধ্যে আছি সেটা কাটিয়ে উঠতে পারবো। করোনার গত দুই-তিন ধরে যে পরিস্থিতি তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আশা করছি মেলা একমাস ধরে হবে। আর এটি লেখক প্রকাশক সবার জন্যই ভালো।
অনন্যা প্রকাশের মার্কেটিং ম্যানেজার জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা খুবই খুশি। ১৪ দিনের প্রিপারেশন নিয়ে মেলা শুরু করেছিলাম, এখন যদি একমাস হয়, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়। গত দুবছর খুবই লোকসানের মধ্যে আছি, সেটি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবো।
কোনও লোক মাস্ক ছাড়া মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ও মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যা সচিব ড. জালাল আহমেদ। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন তিনি একথা বলেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাস্ক পরেই সবাই মেলায় প্রবেশ করছেন। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। চেক করা হচ্ছে তাপমাত্রা, করা হচ্ছে হাত স্যানিটাইজ।
মাস্ক ছাড়াই মেলায় প্রবেশ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এক ব্যক্তিকে পরতে বাধ্য করেন। ভিতরে গিয়ে দেখা যায় তিনি মাস্ক খুলে ফেলেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস্ক পরে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। এরকম অনেকেই মেলায় প্রবেশের পর মাস্ক খুলে ঘুরছেন।
অনেক বিক্রয় কর্মীকেও মাস্ক ছাড়া দেখা যায়। জানতে চাইলে একজন বলেন,কোথায় স্বাস্থ্যবিধি আছে। তাছাড়া মাস্কে অস্বস্তি লাগে, তাই খুলে ফেলেছি।
এসময় মাস্ক না পরার অপরাধে বেশ কয়েকজনকে দুশ টাকা করে জরিমানা করেন নির্বাহী মাজিস্ট্রেট মনীষা রানী কর্মকার। তিনি বলেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ধারা অনুযায়ী দুশ টাকা করে জরিমানা করা হচ্ছে।
মেলায় ঘুরতে আসা পাঠক আবদুল্লাহ আল মুকিত বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অসচেতন। মেলা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য আমাদের পাঠক-দর্শনার্থীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাই সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিৎ এবং সেজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আরেকটু কড়া নজর রাখা উচিৎ।
মেলায় ঘুরে দেখা যায় অনেক স্টলের এখনও নির্মাণ কাজ চলছে। লিটলম্যাগ চত্বরেও একই দৃশ্য। কবি ফারজানা রহমান এ্যানি বলেন, একটু অগোছালো। প্রস্তুতির জন্য যে সময়টা দেওয়া হয় সেটি হয়তো দেওয়া হয়নি। প্রথমদিন এসে আমরা এই চেহারাটা আশা করি না। তবে শুরু হয়েছে—ভালো অনুভূতি কাজ করছে। আসলে বইমেলা একমাস ছাড়া হয় না। মেলা গোছাতে গোছাতেই সাতদিন শেষ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে পনেরদিন হলে জমতে জমতেই শেষ হয়ে যাবে। তাই মেলা একমাস হওয়া জরুরি।
লিটল ম্যাগাজিন পরান কথার সম্পাদক ড. তাশরিক-ই-হাবিব বলেন, আমাদের লিটলম্যাগ চত্বরটি মেলার মূল চত্বরে দিয়েছে। আমাদের চত্বরে তৈরিই আছে শুধু সবাই সবার মতো স্টল সাজিয়ে নিয়ে বসে যেতে পারবে।









