নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের দুটি মামলার চার্জ গঠন আবারও পিছিয়েছে। বুধবার দুটি মামলার চার্জ গঠনের নির্ধারিত দিনে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেন।
বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের দুটি মামলায় গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফুর রহমান, এমএম রানাসহ ২৩ জনকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি ফজলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা জানান, আদালতে নূর হোসেন ও র্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের জামিন আবেদন করা হয়। চার্জশিটের সার্টিফাই কপি এখনও হাতে না পাওয়ায় চার্জ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময় আবেদন করা হয়েছিল।
শুনানিতে আসামি পক্ষে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সরোয়ার হোসেন, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল জেলা কমিটির সেক্রেটারি মাঈনউদ্দিনসহ অর্ধশত আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি ফজলুর রহমান জানান, আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠন করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাত খুনের ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল পৃথক দুটি মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আদালতে ৩৫ জনকে অভিযুক্ত অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামনুর রশিদ মণ্ডল। এ দুটি মামলায় ইতোমধ্যে ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছেন আরও ১২ জন।
চাঞ্চল্যকর এ মামলা দুটিতে ৭ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করে র্যাবের ১৭ জনসহ ২২ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ঘটনার সাক্ষী হিসেবে র্যাব সদস্যসহ ১৭ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
/আরএ/টিএন/








