সহসাই মামলার জট কমছে না বলে মনে করা করছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মতে, সারা দেশের আদালতে জমে থাকা মামলার জট নিরসন অসম্ভব না হলেও দুরূহ।
মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে আইন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার সময় মামলা জটের প্রসঙ্গটি ওঠে।
বৈঠকে আইন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে মামলার জট নিরসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান তার মতামত দিয়েছেন। আমাদের সদস্যরাও তাদের কথা বলেছেন। আমরা আবারও একটি বৈঠক করবো। তখন সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সার্বিক আলোচনার পর আমার মনে হয়েছে, মামলার জট কমানো অসম্ভব নয়, তবে দুরূহ। এখানে বিচারক নিয়োগের বিষয় আছে। তাদের প্রশিক্ষণের, মনিটরিংয়ের ব্যাপার আছে। চাইলেই তো বিচারক বাড়ানো যায় না। সাক্ষ্য আইন সংশোধনেরও প্রয়োজন আছে।’
তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে জনগণের জন্য বিচারক আছে কম বেশি ১৮০০ জন। যেখানে যুক্তরাজ্যে প্রতি সাত হাজার জনগণের জন্য একজন বিচারক আছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ কোটি জনগণের জন্য বিচারক আছে ৮৬ হাজার।
বিচারক হিসেবে নিয়োগের শর্ত হিসেবে বার কাউন্সিলের সনদ থাকার বাধ্যতামূলক করার পক্ষেও মত এসেছে বলে জানান শহীদুজ্জামান সরকার।
সম্প্রতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দেশের আদালতে বর্তমানে ৩৯ লাখ মামলা ঝুলে রয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিন বছরে সাত কোটি ৮৫ হাজার টাকা ৪৫৮ টাকা কোষাগারে জমা পড়েছে।
কমিটির পরের বৈঠকে ‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন’ নিয়ে আলোচনা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মো. শামসুল হক টুকু, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, রুমিন ফারহানা, সেলিম আলতাফ জর্জ এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন অংশ নেন।









