সবজি বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় প্রতিরোধ করেছিলেন মোশারফ হোসেন (৫৫)। তার প্রতিরোধ ভাঙতে ছিনতাইকারীরা মোশারফের বুকে ও হাতে ছুরি চালায়। ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায় তার টাকা-পয়সা। রিকশায় বসা মোশারফকে নিয়ে দ্রুত বাসার দিকে ছুটে যান রিকশাচালক। বাসায় যেতে যেতে রক্তক্ষরণে ক্লান্ত হয়ে পড়েন মোশারফ। পরিবারের লোকজন সেখান থেকে তাকে নিয়ে ছোটেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মোশারফকে ছুরিকাঘাত করার দৃশ্য ধরা পরে সিসি ক্যামেরায়, অভিযানে নামে পুলিশ। দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের পোশাকে তখনও লেগেছিল মোশারফের রক্তের দাগ।
রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদের দয়াগঞ্জ রোডের ঢাকা মোজাইক কোম্পানির সামনের পাকা রাস্তার ওপর এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
মোশারফ গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার হারুন-অর-রশিদের ছেলে। তিনি গেন্ডারিয়ার দ্বীনাথ সেন রোডের শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে ভাড়া ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের সময় দুই থেকে তিন জন ছিনতাইকারী ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে মোশারফকে রিকশা থেকে নামিয়ে সড়কে দাঁড় করিয়ে তল্লাশি করে। ধারালো ছুড়ি দেখিয়ে মোশারফের কাছে থাকা নগদ টাকা দিয়ে দিতে বলে। তিনি ছিনতাইকারীদের টাকা দিতে না চাইলে ছিনতাইকারীরা উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে মোশারফের বুকের বাম পাশে ও বাম হাতের কবজিতে আঘাত করে।
এতে মোশারফ গুরুতর জখম হয় বলে জানায় পুলিশ। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এরপর তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ছিনতাইকারীরা টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। রিকশাচালক মোশারফকে নিয়ে তার গেন্ডারিয়ার বাসায় যান। তখন তার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। ঘটনার দিনেই (২০ ফেব্রুয়ারি) মো. সজীব (২০) ও মো. শাকিল (২০) নামে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে।
শাহ ইফতেখার আহমেদ আরও জানান, ছিনতাই করার সময় ছিনতাইকারীরা যে পরিহিত পোশাক পরিহিত ছিল, তাতে ভিকটিমের রক্তমাখা দাগ পাওয়া গেছে। ছিনতাইকারীরাও স্বীকার করেছে, মোশারফকে ছুরিকাঘাত করার সময় তাদের গায়ে রক্ত লেগেছে।
তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত দু’টি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ছিনতাইকারী দুজনেরই বাসা গেন্ডারিয়া, তারা মাদকাসক্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বিভিন্ন সময় মাদকের টাকা জোগার করতে তারা ছিনতাই করে থাকে।









