রাজধানীর বনানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে নূরে আলম সিদ্দিক (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি টঙ্গীতে ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা রেলওয়ে বিমানবন্দর ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় বনানী মাছরাঙা টিভি সেন্টারের বিপরীত পাশে রেললাইন পার হওয়ার সময় কমলাপুরগামী ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান নূরে আলম সিদ্দিক। পরে খবর পেয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।’
মৃতের দুলাভাই ফরহাদ হোসেন জানান, গতকাল বিকালে নিহত ব্যক্তি টঙ্গীর রুমমেটদের বলে ঢাকার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। তাদের বলেছিলেন, শ্যামলীতে তার দুলাভাইয়ের বাসায় আম্মা আসবে বলে দেখা করতে বেরিয়েছিলেন।
ফরহাদ হোসেন জানান, তার আম্মা অর্থাৎ আমার শাশুড়ি গত শুক্রবার কুমিল্লায় আমাদের গ্রামের বেড়াতে আসছিলেন। আর আমরাও কুমিল্লায় ছিলাম। তবে কেন নূর আলম রুমমেটদের বলেছিল তার মা ঢাকায়, বিষয়টা একটু রহস্যজনক। কেনই বা সে ঢাকায় আসছিল, আমরা তো কুমিল্লায় ছিলাম।’
তিনি আরও জানান, গতকাল সন্ধ্যায় নূর আলম তার বড় বোন জেসমিন নাহারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি ঘুরতে বের হয়েছেন বলে বোনকে জানান। রাতে আরও কিছু একটা বলতে চেয়েছিল বোনের সঙ্গে। কিন্তু পরে আর তার ফোনে পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশ দুর্ঘটনার খবর জানায়। গতকাল সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখনে তিনি লিখেছিলেন, অনেক ভেবেছি মৃত্যুর চেয়ে ভালো সমাধান হয়তো নেই।
মৃত নূরে আলম সিদ্দিক নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা প্রধান পণ্ডিত গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে। তার মায়ের নাম নূর নাহার বেগম। বর্তমানে তিনি টঙ্গী এলাকায় একটি ম্যাচে থাকতেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট।









