অমর একুশে বইমেলা একেবারেই শেষ প্রান্তে। মেলার ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় মানুষের স্কেচ তৈরি করার জন্য খোলামেলা জায়গায় কয়েকজন মানুষ অপেক্ষা করছেন। যাদের নেশা ও পেশা মূলত ছবি অঙ্কন। তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকেন। কখনও প্রকৃতি, কখনও জীবজন্তু আবার কখনও মানুষের ছবি। সকল ধরনের ছবি আঁকতেই তারা অত্যন্ত পারদর্শী।
শনিবার (১২ই মার্চ) বইমেলা পরিদর্শন করে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শিল্পী এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছেন। কাছে গিয়ে জানা যায়, তারা বসার জায়গা খুঁজছেন। ধুলাবালি বাতাসে উড়ে এসে চোখে মুখে আর স্কেচে পড়ছে, তাই বসে ছবি অঙ্কন করার জন্য সুন্দর জায়গায় খুঁজছেন।
স্কেচ শিল্পী এম এ আজিজ বলেন, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে দীর্ঘ ১৭ বছর এই পেশায় যুক্ত। গত ১৭টা বইমেলায় আমি স্কেচ এঁকেছি। ছবি আঁকা যেমন আমার পেশা তেমনি নেশাও। বইমেলা নিয়ে তেমন কোনও আক্ষেপ নেই। তবে আমাদের যদি অন্ততপক্ষে একটা নির্দিষ্ট বসার জায়গা থাকতো তাহলে সুবিধা হতো।
আরেক স্কেচ শিল্পী পার্থ বিষু বলেন, বইমেলায় আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনও জায়গা দেওয়া হয়নি। আজ এখানে, কাল ওখানে এভাবেই দিন কাটছে। স্কেচ শিল্পীদের জন্য যদি নির্দিষ্ট একটা জায়গা দেওয়া হলে বেওয়ারিশ ভাবে ঘুরাঘুরি করতে হতো না। তবে এ নিয়ে বাংলা একাডেমি বা অন্য কারও কাছে আমাদের কোনও আক্ষেপ নেই। ছবি আঁকতে পারছি এটাই আমাদের জন্য অনেক।
সবকিছু ছাপিয়ে এবারের বইমেলায় গত বছরের তুলনায় বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন স্কেচ শিল্পীরা। এ বছর পেন্সিল দিয়ে ছবি অঙ্কন ৬০০ টাকা, চারকল দিয়ে ৬০০ টাকা, গ্লাস মার্কার ৫০০ টাকা, তুলি কালি ৭০০ টাকা, জল রং দিয়ে ২০০০ টাকা, কলম ১৫০০ টাকা এবং মোবাইল ছবি অঙ্কন করতে ১২০০ টাকা নিচ্ছেন স্কেচ শিল্পীরা। তবে দু-একজন আর্টিস্ট এর থেকে কিছু টাকা কম হলেও ছবি অঙ্কন করে দিচ্ছেন।









