বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭ সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে নতুন করে অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৮ মাসের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান পরিচালনা করে যদি কোনও তথ্য পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৮ মাস পর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে ততদিনে মামলাটি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা রবিবার (১৩ মার্চ) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফৌজিয়া আক্তার পপি। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এ মামলায় পূর্বের রুল যথাযথ ঘোষণা করে আজ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত রায়ে বলেছেন, অভিযোগ ওঠা ১৭ জন সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে দুদক যে অনুসন্ধান করেছে, তা সঠিক হয়নি। দুদকের পরিপত্র অনুযায়ী যেভাবে অনুসন্ধান করতে হয়, সেভাবে তারা করেনি। তাই তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এর আগে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমানের ১৭ সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয় তদন্তের জন্য নোটিশ দেয় দুদক। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্ট) এর ১৭ নেতা হলেন- তৎকালীন সভাপতি মো. মসিকুর রহমান, সহ-সভাপতি আজহারুল ইমাম মজুমদার, আনোয়ার হোসেন, মো. ইউনুস খান, সাধারণ সম্পাদক মো. মনতাসার রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল চৌধুরি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম, অর্থ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল বারি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. ফিরোজুল ইসলাম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. আবদুস সোবহান, নারী বিষয়ক সম্পাদক আসমা খানম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম কায়সার আহমেদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আবদুল জব্বার ও মো. আবদুল আজিজ। তাদের মধ্যে কয়েকজন ওই নোটিশের তলবে দুদকে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে ওই ১৭ নেতা হাজিরায় অস্বীকৃতি জানালেও দুদকের পক্ষে আর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পরে এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সেসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। সে রিটের শুনানি নিয়ে ওই ১৭ জনের ক্ষেত্রে দুদকের পদক্ষেপে নিষ্ক্রিয়তা কেন বে-আইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিলেন হাইকোর্ট।









