নড়াইলে আরাফাত আলী (১১) নামে এক কিশোরকে অপর দুই কিশোর অপহরণ করে। এরপর মুক্তিপণের দাবিতে তাকে খুন করা হয়। লাশ গুম করা হয় বাঁশ বাগানে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি দুই অপহরণকারীর। পিবিআই গ্রেফতার করেছে তাদের। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত আরাফাতের লাশ।
বুধবার (১৬ মার্চ) সকালে যশোর জেলার পিবিআই’র পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বাংলা ট্রিবিউনককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আরাফাত আলী (১১) নড়াইলের পেড়লী দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে গত ১২ মার্চ সকাল ৯টার দিকে মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। ওই দিন বিকাল হয়ে গেলেও সে মাদ্রাসা থেকে ফিরছিল না। পরিবারসহ নিকট আত্মীয়-স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাকে না পেয়ে নিখোঁজ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় একটি জিডি করেন তারা।
রেশমা শারমিন জানান, ১৩ মার্চ সকালে আরাফাতের বড়ভাই মহব্বত আলীর (১৮) ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একটি বার্তা আসে। ওই বার্তায় লেখাছিল, ‘তুই খুব বড় একটা জিনিস হারাতে চলেছিস।’ ১৪ মার্চ আলীর পরিবার নিখোঁজের জিডি নিয়ে যশোর জেলা পিবিআই’র পুলিশ সুপারের কাছে যায়। তাকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর পিবিআই তদন্ত শুরু করে। ১৫ মার্চ পিবিআই নড়াইলের বোড়ামারা এলাকা থেকে নাবিল ও মিলন হোসেন নামে দুজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নড়াইলের বোড়ামারা এলাকার মাহাবুরের বাঁশবাগান থেকে ভিকটিম আরাফাত আলীর (১১) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরাফাত আলীর বাবা ওবাইদুর রহমান বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
গ্রেফতার দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে জানায়, গত ১২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাবিল ও অভিযুক্ত মিলন হোসেন কাঠাল চুরির কথা বলে আরাফাত আলীকে (১১) বাড়ি থেকে ডেকে তাদের বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশের মাহাবুবের বাঁশবাগানে নিয়ে হত্যা করে। শিশু ভিকটিম আরাফাত আলীর মৃতদেহ তারা বাগানের মধ্যে বাঁশের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে।









