পরিচ্ছন্ন পোশাক, হাতে স্বর্ণের ব্রেসলেট, চোখে চশমা—পরিপাটি হ্যান্ডসাম যুবক। যিনি রাজধানীর মীনা বাজার ও আগোরাসহ বিভিন্ন চেইনশপের আউটলেটে ঘুরে বেড়ান। আউটলেটে প্রবেশ করেই ঘুরে ঘুরে পছন্দের দামি পণ্য ঝুড়িতে নেন। কাউন্টারে এসে পণ্যের দাম পরিশোধ করার জন্য মানিব্যাগ থেকে ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ড বের করেন। কিন্তু তার কার্ড থেকে পণ্যের মূল্য পরিশোধ হয় না। তার বাসা পাশেই বলে আউটলেট থেকে একজন কর্মীকে নিয়ে পণ্যসহ মোটরসাইকেলে রওনা দেন। কিছু দূর গিয়ে কৌশলে বিক্রয়কর্মীকে বাইক থেকে নামিয়ে পণ্য নিয়ে চম্পট। আর খোঁজ মেলে না তার।
মীনা বাজার, আগোরা ও ট্রাস্ট ফ্যামিলি নিড নামে চেইনশপের উত্তরা আউটলেটে এই প্রতারক ব্যক্তিকে দেখা গেছে। গত ১ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এসব আউটলেট থেকে পণ্য নিয়ে কৌশলে উধাও হয় সে। তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মীনা বাজারের উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের কর্মকর্তা তাপস কুমার কর্মকার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মীনা বাজারে আসে। মীনা বাজার থেকে সে ১১ হাজার ছয়শ একাশি টাকার বাজার করে। টাকা পরিশোধের সময় জানায় মানিব্যাগে টাকা নেই। বলে, ‘মীনা বাজারের একজন সেলসম্যান দিন। আমার বাসা পাশেই, তার কাছে টাকা দিয়ে দেবো’। কথামতো একজন সেলস ম্যানকে তার সঙ্গে দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলে তারা রওনা হয়ে যায়। ওই ব্যক্তি ১৩ নম্বর সেক্টরে গিয়ে সেলসম্যানকে কৌশলে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দেয়। সেলসম্যান অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও সে আর ফিরে আসেনি।
এর আগে গত ১ মার্চ আগোরার আউটলেটে বেলা ২টার দিকে গিয়েও মোটা অঙ্কের বাজার করে সে একইভাবে বের হয়ে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, আউটলেটে ঢুকেই সে ইচ্ছেমতো পণ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এরপর একজন সেলসম্যান নিয়ে বের হয়ে যায়।
ট্রাস্ট ফ্যামিলি নিড নামে একটি চেইনশপে গিয়েও সে একই রকম প্রতারণা করেছে।
মীনা বাজারের একটি আউটলেটে সে মেম্বারশিপের জন্য যে মোবাইল নম্বর দিয়েছে সেটি মুন্নী নামের একজন নারী ব্যবহার করেন। তিনি এর কিছুই জানেন না বলেও জানান।
মীনা বাজার উত্তরা আউটলেটের ম্যানেজার জাহিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওই ব্যক্তিকে দেখে কখনও প্রতারক মনে হয়নি। সে বাজার করার পর সেলসম্যান নিয়ে বাসা থেকে টাকা দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু পথে কৌশলে সেলসম্যানকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে উধাও হয়। এরকম আরও কয়েকটি আউটলেটে সে এই কাজ করেছে।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জিডির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।









