স্ত্রীকে নির্যাতন, সন্তানকে হত্যা চেষ্টা, সন্তানকে স্বীকার না করা ও সন্তানকে ভরণপোষণ না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের এসপি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীর স্ত্রী আয়েশা আক্তার মৌ।
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) পারিবারিক আদালত এবং সিএমএম কোর্টে দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে সিএমএম কোর্টের বিচারক রাজেশ চৌধুরী মামলাটি আমলে নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের ডিসিকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করে এর প্রতিবেদন আগামী ৮ মে আদালতে দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাদী আয়েশা আক্তার মৌ-এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ বুধবার (১৬ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, পারিবারিক কোর্টে দেওয়ানি মামলা করা হয়েছে; যার বিষয় রয়েছে এসপি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী এবং আয়েশা আক্তার মৌ-এর সন্তানের ভরণপোষণের জন্য। এজন্য পারিবারিক কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৯২/২০২২। যেহেতু মহিউদ্দিন ফারুকী তার সন্তানকে অস্বীকার করে সন্তানকে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, অন্য একটি মামলা যা সিএমএম কোর্টে দায়ের করা হয়েছে। কোর্ট নম্বর ০৯, দন্ডবিধির ধারা ৩১৩ ও ৫০৬। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে এসপি মহিউদ্দিন ফারুকী সাথে আয়েশা আক্তার মৌ-এর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্পর্ক গভীর হয়। মহিউদ্দিন ফারুকী বিবাহিত এ বিষয়টি তিনি গোপন করেছেন এবং আয়েশার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন মহিউদ্দিন ফারুকী। এ সম্পর্কের জেরে একপর্যায়ে আয়েশা আক্তার গর্ভবতী হন, পরে তার গর্ভপাত করান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। পরে মহিউদ্দিন আবারও আয়েশার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়। আবারও গর্ভবতী হন আয়েশা। এবার একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তার বয়স তিন মাস চলছে। এর আগে মহিউদ্দিন ফারুকী আয়েশাকে বিয়েও করে। এ বাচ্চাটিকে পরবর্তী সময়ে মহিউদ্দিন ফারুকী অস্বীকার করে আসছে এবং আয়েশাকে ডিভোর্স দিয়েছে।
এই আইনজীবী আরও বলেন, বর্তমানে ফারুকী সাহেবের বক্তব্য হচ্ছে, এই বাচ্চা তার নয়। আর আমার বাদীর বক্তব্য হচ্ছে, এই বাচ্চা মহিউদ্দিন ফারুকীর। মহিউদ্দিন ফারুকী পরবর্তী সময়ে আয়েশা আক্তার মৌ এবং তার সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। আয়েশা আক্তার মৌ এর আগেও পুলিশ সদর দফতরের আইজিপি কমপ্লেইন সেল এ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে আয়েশা আক্তার মৌ-এর পক্ষ থেকে। সেখান থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সেই কমিটির তদন্ত চলমান রয়েছে। মহিউদ্দিন ফারুকী সেই তদন্ত প্রভাবিত করেছেন। এছাড়া মহিউদ্দিন ফারুকী তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে আয়েশা আক্তার মৌ এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় আয়েশা মৌকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা এই মামলার ন্যায় বিচার চাই আদালতের কাছ থেকে।
মামলার বাদী আয়েশা আক্তার মৌ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি এখনও বলছি তিন মাসের যে কন্যা সন্তান তার বাবা এসপি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী। আমি আমার সন্তানের পিতৃত্বের পরিচয় চাই। আর আমার সাথে যে ধরনের নির্যাতন এবং হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে এ বিষয়ে বাধ্য হয়ে আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। আমি আমার সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার চাই।
আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়ে অভিযুক্ত এসপি মহিউদ্দিন ফারুকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি আদালতের বিষয়। এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। কথা না বলার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’
পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বর্তমানে পুলিশ সদর দফতরে লজিস্টিক শাখার এআইজি হিসেবে কর্মরত।
আরও পড়ুন:









