রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক সমস্যা নিরসনে নগরের বাস সার্ভিসের তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও বিদ্যমান বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগকে অতি দ্রুত প্রস্তাবিত শহরের সব রুটে সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।
পাশাপাশি রুট পারমিটবিহীন বাস সার্ভিসকে চিহ্নিত করে নগরের সমগ্র বাস সার্ভিসকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তারা।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকালে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত ‘স্বাভাবিক ঢাকায় অসহনীয় যানজট: পরিবহন পরিকল্পনা ও নগর পরিকল্পনার প্রেক্ষিত বিশ্লেষণ ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনলাইন সংলাপে এ কথা জানানো হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান। এতে তিনি বলেন, ‘নগরে সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক এলাকার বরাদ্দকৃত ভূমি ২০– ২৫ ভাগ হওয়া প্রয়োজনীয় হলেও ঢাকায় ১০ ভাগের ও কম সড়ক বিদ্যমান। এর পরেও সেবা সংস্থা, সড়ক সংস্থা ও নগর সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং ও হকার অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকার সড়কগুলো সক্ষমতার ৬০-৭০ ভাগ এর বেশি কার্যকারিতা দেখাতে পারে না। আবার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নগর এলাকার জনঘনত্ব ৬০–৮০ জন প্রতি একরে, যা অল্প কিছু আরবান ডিস্ট্রিক্ট এ সর্বোচ্চ ১২০ হতে পারে। কিন্তু ঢাকায় জনঘনত্ব একর প্রতি ৩০০-৪০০ জন। কোন কোন এলাকায় ৬০০-৭০০ লোকও বাস করে প্রতি একরে। ফলে ঢাকার সড়ক তার কার্যকর সক্ষমতার ৬-৭ গুণ ট্রাফিক ধারণ করার চ্যালেঞ্জের মুখে। পাশাপাশি নগর জনসংখ্যা ৭০ লাখ অতিক্রম করলে ডিজইকোনমিস অব স্কেল কার্যকর হতে থাকে।
সভায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-আইপিডি’র পরিচালক পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার ভৌত পরিকল্পনা ও যোগাযোগ পরিকল্পনার যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকাকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেলে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত এলাকার ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা এখনই চূড়ান্ত করে ফেলা দরকার।’
সভায় বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উন্নয়ন) এবং ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) পরিচালক পরিকল্পনাবিদ ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক বলেন, ‘ট্রাফিক মোড়গুলোতে ডিজাইন ও পরিকল্পনাগত সমাধান করা প্রয়োজন।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) উপদেষ্টা পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকার ট্রাফিক ও পরিবহন পরিকল্পনায় যতগুলো সম্ভাব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে, সেগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলেও ঢাকার যানজট নিরসন করা যাবে না। যদি না সারা দেশের আঞ্চলিক উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ঢাকামুখী জনস্রোত না কমানো যায়।’









