স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা’র আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও অভিযাত্রী। ওই দিন ভোরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সঙ্গীতের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ আয়োজন।
আয়োজকরা জানান, দিবসটির শুরুতে জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ঐতিহাসিক আমতলা গেটের সামনে যাবে অভিযাত্রীদল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলের ঐতিহাসিক সেই স্মৃতিধন্য স্থান ছুঁয়ে পদযাত্রা যাবে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই কারাগারেই বিভিন্ন সময়ে বন্দি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের নায়ক মহানায়কেরা। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হোসেনী দালান সড়ক ধরে বকশীবাজার মোড় হয়ে শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি হলের সামনে দাঁড়িয়ে স্মরণ করা হবে এই শহীদ বুদ্ধিজীবীকে।
এরপর বুয়েট প্রধান ফটক সংলগ্ন শহীদ মিনারের সামনে দিয়ে ধীরলয়ে হেঁটে যাবে পদযাত্রীদল। পলাশীর মোড়ে অবস্থিত ভাষা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘরের সামনে দিয়ে ইডেন কলেজ পেরিয়ে নিউমার্কেট হয়ে যাত্রীদল যাবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। সেখান থেকে আসাদ গেট ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার পেরিয়ে পদযাত্রীদল যাবে আগারগাঁও-এ অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। সেখানে যুক্ত হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল। তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উদ্দীপ্ত হবে অভিযাত্রীরা।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে বেরিয়ে এসওএস শিশুপল্লী, টেকনিক্যাল মোড়, মাজার রোড হয়ে পদযাত্রা যাবে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন ও নীরবতা পালন শেষে দিয়াবাড়ি ঘাটে অপেক্ষমাণ নৌকায় শুরু হবে পদযাত্রীদের জলযাত্রা। সেখান থেকে পদযাত্রাটি যাবে সাদুল্লাপুরের শতবর্ষী বটমূলে, দেশমাতার-শীতল ছায়াময় আঁচল তলে।
বেগুনবাড়ি স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকের মিলিত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে পদযাত্রীদল পৌঁছে যাবে আক্রান স্কুল প্রাঙ্গণে। সেখানে বিশ্রামের পর বিকালে পদযাত্রীদল চলে যাবে মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্বে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধের স্মৃতিঘেরা কলমাগ্রামের সাভার ডেইরি ফার্ম। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডেইরি ফার্ম গেটসংলগ্ন শহীদ টিটো'র সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে জানাবে বিনম্র শ্রদ্ধা। সেখান থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে পাদযাত্রীদল যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখানে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
আয়োজকরা জানান, ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবছর পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।









