বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীসহ ৭০ জন নিয়ে ঢাকা থেকে কানাডার টরন্টোতে গেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধনের আগেই ৪ কোটি টাকার বেশি খরচ করে কেন এই ফ্লাইট তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনের এই ফ্লাইটে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যাননি। শনিবার রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের এ ফ্লাইট টরন্টোর উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ফ্লাইটে ৭০ জন থাকলেও কতজন টিকিট কেটেছেন, আর কতজন প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী—সে তথ্য দেয়নি বিমান। এই ফ্লাইটে প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী শামীমা জাফরীন, কন্যা তাহরিমা রাহবার যাওয়ার কথা ছিল। কয়েকটি সূত্রে তাদের যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বিমান এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানায়নি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ মোছাব্বির হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদকে এই ফ্লাইটে যেতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু সালেহ্ মোস্তফা কামালও গিয়েছেন এই ফ্লাইটে। এছাড়া বিমানের প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর মৃধা মো. একরামুজ্জামান, প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ড. মো. মোকতার হোসেনসহ ৩০ জন কর্মকর্তাকে যেতে অনুমোদন নেওয়া ছিল।
তবে বিমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার রাতে বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠান হয়। সেখানে ফিতা কাটেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। সঙ্গে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বিমান পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশে অবস্থিত কানাডিয়ান হাইকমিশনের ট্রেড কমিশনার কামাল উদ্দিনসহ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ফ্লাইটটি রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে টরন্টো পৌঁছাবে। বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের মাধ্যমে টরন্টোতে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরুর আগেই বিশাল বহর নিয়ে টরন্টো যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের শুরু হয়। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নানান তথ্য দিয়েছে বিমান। ২৪ মার্চ ঢাকা–টরন্টো গন্তব্যের উদ্বোধনী ফ্লাইট নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘কানাডার সঙ্গে একটা ফ্লাইট অপারেট করা আমাদের জন্য একটা মর্যাদার বিষয়। আমরা চিন্তাভাবনা করেই ফ্লাইট অপারেট করছি।’
বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী আরও বলেন, ‘গত দুই তিন বছর থেকেই আমাদের প্রত্যাশা ছিলে যে, কানাডা ফ্লাইটটা আমরা অপারেট করতে পারবো। বিভিন্ন সময় এটা আমরা বলেছিও। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে (কানাডীয় কর্তৃপক্ষ) সবকিছু যখন আমাদের চূড়ান্ত হয়েছে, তখন আমরা টার্গেট করেছিলাম, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণীয় করতে ফ্লাইট শুরু করার। এটা সাংবাদিক সম্মেলন করে তুলেও ধরা হয়েছিল। সাংবাদিক সম্মেলনের পরে আমরা একটি মেইল পেলাম, সেখানে জানানো হলো বোর্ডিং সিস্টেম অটোমেটেড করতে তাদের ১২ সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপরে আমরা অনুরোধ করি, এই বিশেষ দিনে যাতে প্রথম ফ্লাইটটা আমরা অপারেট করতে পারি। এ ব্যবস্থা যাতে তারা করে।
ভ্রমণের সরকারি আদেশে এই ফ্লাইটে যাওয়া কর্মকর্তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে জিএসএ নিয়েগের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অফিস ঠিক হয়েছে এক মাস আগে। জিএসএ ঠিক হওয়ার পথে। অনেক এয়ারলাইনস জিএসএ ছাড়া চলছে। এটা ছাড়া চলবে না এমন কোনও কথা নেই। এটার জন্য যাচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়। আমাদের রেগুলার ফ্লাইট করতে পারিনি, তাই ইন্টিগ্রেশনের বিষয়টি আসছে। এরই অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ প্রথম ফ্লাইটটি যাচ্ছে। এটা কোনেও জিএসএ নিয়োগ না, কোনও কিছুই না। আমাদের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। প্রস্তুতির জন্য তারা ১২ সপ্তাহ সময় চেয়েছে। জিএসএ নিয়োগের জন্য কেউ যাচ্ছে না।’









