রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫০) ও কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতি (২২) হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার পাঁচ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন সিকদার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোস্তফা রেজা নূরের আদালত প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ ও আরফান উল্লাহ দামাল।
আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন এ তথ্য জানান।
গত ২৪ মার্চ রাতে শাহজাহানপুরের আমতলী এলাকার রাস্তায় অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪)। এসময় তার মাইক্রোবাসের পাশে রিকশায় থাকা বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতিও গুলিতে নিহত হন। আহত হন টিপুর গাড়িচালক মুন্না। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৬ মার্চ রাতে বগুড়া থেকে শুটার মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করে ডিবি।
পরে গত ১ এপ্রিল রাতে এই চার জনকে গ্রেফতারের কথা জানায় র্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় নজরদারির কাজে ব্যবহার করা একটি মোটরসাইকেল এবং হত্যার জন্য দেওয়া ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলেও জানানো হয়।
র্যাব জানায়, ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুর আস্থাভাজন রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবুকে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের মামলায় টিপু হত্যা মামলায় গ্রেফতার চার জনই আসামি ছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ডেও অন্যতম ভূমিকা পালন করে আরেক সন্ত্রাসী মুসা; যিনি তালিকাভুক্ত শীর্ষসন্ত্রাসী প্রকাশ-বিকাশের সহযোগী বলে পরিচিত। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে মামলাটির গতি চলমান থাকায় ‘ফাঁসি হতে পারে’ এমন শঙ্কা থেকে তারা টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করে।









