টিপ পরায় রাজধানীর একটি কলেজ শিক্ষককে হেনস্তা করার দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বর্ণবাদী আচরণের নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি। সোমবার (৪ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল সকালে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্যের দ্বারা তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারের প্রতি বর্ণবাদী ও অবমাননাকর আচরণের ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শনিবার (২ এপ্রিল ) সকালে ড. লতা সমাদ্দার বাসা থেকে নিজ কর্মক্ষেত্র তেজগাঁও কলেজে যাচ্ছিলেন। তার কপালে টিপ পরা ছিল। মোটরসাইকেলে বসা একজন পুলিশ সদস্য ওই শিক্ষককে দেখেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এবং ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে কটূক্তি করেন। এ ঘটনার শিক্ষক প্রতিবাদ জানালে ওই পুলিশ সদস্য তাকে গালি দেন এবং তার পায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান।
ওই পুলিশ সদস্যের শাস্তির দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘এ ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান সরকার যেখানে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজের সর্বস্তরে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ ভেদাভেদ দূর করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে; ঠিক সে সময় সরকারের পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য, নারীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যার তৎপর থাকার কথা, তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনভিপ্রেত। আমরা মনে করি, এ ধরনের অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সভ্য সমাজব্যবস্থা কায়েম করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।’
বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, ‘একজন ব্যক্তির বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায়ভার কোনও প্রতিষ্ঠান বহন করবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সংসদেও বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আমরা শিগগিরি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীকে শনাক্ত করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’









