বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে শিক্ষক সিরাজাম মুনিরাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তার বকেয়া বেতন ও প্রাপ্য অন্যান্য সুবিধা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
ওই শিক্ষকের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে মুনিরার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
পরে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘রংপুরের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মুনিরাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিলেও তিনি পেশায় ফিরতে পারছেন না। গত ৯ জানুয়ারি মুনিরা পদে ফিরতে আবেদন করলেও তা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনিরাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, মামলাটির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে অনাস্থা জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি এখনও সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। তাই তাকে পুনর্বহাল করা যাবে না বলে জানায় বিশ্ববিবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ার পর ২০২০ সালের ১৩ জুন তাকে নিয়ে কটূক্তি করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সিরাজাম মুনিরা। তবে মুহূর্তেই সেটি মুছেও ফেলেন তিনি। কিন্তু এরই মধ্যে স্পর্শকাতর ওই পোস্ট নজরে চলে আসে অনেকের। স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। এরপর ওইদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তফা কামাল বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সিরাজাম মুনিরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন ওই শিক্ষিকা। এ মামলা থেকে ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দেন রংপুরের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আব্দুল মজিদ। এরপর সিরাজাম মুনিরা পেশা ও পদে ফিরতে চাইলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সাময়িক বরখাস্তের’ আদেশ প্রত্যাহার করেনি।
পরে গত ৩ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সিরাজাম মুনিরা। রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাময়িক বরখাস্তের’ আদেশ প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ রুল জারি করেন।
রুলে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে সিরাজাম মুনিরাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং তাকে পুনর্বহাল করে তার বকেয়া বেতন ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।









