আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ‘যমুনা নদীর ইকোনোমিক করিডোর উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে নদীর ইকোনোমিক করিডোর উন্নয়ন আরও অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় রাজনৈতিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা করা সম্ভব হয়নি।’
সোমবার (১১ এপ্রিল) রাজধানী রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’র শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি ‘যমুনা নদীর ইকোনোমিক করিডোর উন্নয়ন: সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা এবং কৌশল প্রণয়ন’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর এতে বক্তব্য রাখেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং রয়েল মিলিটারি কলেজ, কানাডার সংযুক্ত অধ্যাপক ড. এস এম হাবিবুল্লাহ বাহার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডর মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রশিদ।
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘যমুনা নদীর উন্নয়নের করিডোর অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। এমনকি শাখা নদীগুলোরও করিডোর উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন এই উন্নয়ন করিডোর বাস্তবায়ন করতে প্রকৌশলীদের সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘যেকোনও কানেক্টিভিটি দেশের উন্নয়নের দুয়ার খুলে দেয়। যমুনা নদীর ইকোনোমিক করিডোর উন্নয়নের কথা চিন্তুা করেই দুই পাশের স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এই করিডোর শুধু বাংলাদেশের মাঝে পণ্য পরিবহনে অবদান রাখবে, তা নয়। এই করিডোর বিদেশেও পণ্য পরিবহন করতে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় যমুনা তীরের মানুষ এখন উন্নতর জীবন ও জীবিকার স্বপ্ন দেখছে।’
এনামুল হক শামীম এমপি বলেন, ‘যমুনা নদী ঘিরে বাণিজ্য ও শিল্পায়নের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। যমুনা নদীর ইকোনোমিক করিডোর উন্নয়ন করতে পারলে রফতানিমুখী শিল্পায়ন হবে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে যমুনা নদীর ওপর সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে।’
তিনি বলেন, ‘যমুনা নদীর করিডোরকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য সরকার নদী শাসন ও নদী রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বন্যার ঝুঁকি কমানো ও নদীর পানি প্রবাহ বাড়ানো, পলি ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে।’
আবদুস সবুর বলেন, ‘সুনীল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যমুনা করিডোর ঘিরে নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অথনীতিতে আরও গতি সঞ্চার হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ এর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশও বাস্তবায়িত হবে।’









