রাজধানীর উত্তর মুগদায় বাবা-মায়ের হেফাজতে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জন্মসূত্রে কানাডীয় এক তরুণীর বিদেশযাত্রার বিষয়ে আদেশের জন্য বুধবার (১৩ এপ্রিল) দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এদিন তরুণীকে আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। রিটের শুনানির সময় আদালতে কানাডিয়ান হাইকমিশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশি বাবা-মায়ের ওই সন্তানের জন্ম কানাডায়। প্রায় ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণী কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১০ মাস আগে তার বাবা-মা বেড়ানোর কথা বলে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এরপর ওই তরুণী কানাডায় ফিরে যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, তরুণীর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে তার নানি ও মা সবসময় বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী ল্যান্ডফোনে কানাডা সরকার ও ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশনকে জানায়, তাকে জোরপূর্বক ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছে। ওই তরুণী কানাডায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি কানাডিয়ান হাইকমিশন থেকে রাজধানীর মুগদা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তারপর কানাডিয়ান হাইকমিশনের পক্ষে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।
রিটে পুলিশের আইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, মুগদা থানার ওসি এবং ওই তরুণীর বাবা-মাকে বিবাদী করা হয়।
ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ৫ এপ্রিল তরুণীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তরুণীর অসম্মতিতে তাকে ১০ মাস ধরে আটক রাখা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
পরে সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন সাবালিকা নারীকে গত বছর তার মা নিয়ে আসেন। বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর ১০ মাস আটক রাখা হয়। তার মোবাইল ফোন দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় তাকে হাজির করতে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছি। আবেদনে বলা হয়েছে, তার শিক্ষাজীবন চালিয়ে নিতে তাকে যেন কানাডায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।’









