রাজধানীর উত্তর মুগদায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাবা-মায়ের হেফাজতে থাকা জন্মসূত্রে কানাডীয় এক তরুণীর বিদেশ যাত্রার বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রবিবার (১৭ এপ্রিল) দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৩ এপ্রিল) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। রিটের শুনানির সময় আদালতে কানাডিয়ান হাইকমিশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সকালে কানাডা হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, বাংলাদেশি বাবা মায়ের সন্তান ১৯ বছরের কানাডিয়ান তরুণীর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, থাকা খাওয়ার খরচ বহনসহ সব নিরাপত্তা দেবে কানাডা সরকার। হাইকোর্টকে লিখিতভাবে কানাডা হাইকমিশনার পক্ষ হয়ে এ তথ্য জানান রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। পরে এজলাস কক্ষে বিচারক একান্তে তরুণীর কথা শোনেন।
এরপর শুনানির এক পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, সে (তরুণী) আর এক মুহূর্ত বাবা-মায়ের কাছে বাংলাদেশে থাকতে চায় না। সে কানাডা যেতে চায়। তাই আমরা আজই আদেশ দিয়ে এখান থেকে তাকে কানাডিয়ান দূতাবাসে পাঠিয়ে দেবো।
এ সময় তরুণীর বাবা এজলাশ কক্ষের ভেতর অঝোরে কেঁদে ফেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমি নিজেই আমার মেয়েকে কানাডা নিয়ে যেতে চাই। কয়েকটি দিন আমাদের কাছে থাকুক।’
এসময় বিচারপতিরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে নীরবতা নেমে আসে।
এক পর্যায়ে আদালত মেয়ের বাবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার মেয়ের সঙ্গে কথা বলুন। সে যদি আপনাদের সঙ্গে থাকতে চায়, তাহলে আমরা রবিবার আদেশ দেবো। অন্যথায় আজই আদেশ দিয়ে তাকে কানাডা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেবো। কারণ সে এক মুহূর্ত আপনাদের কাছে থাকতে চায় না।’
এরপর আদালত মামলার শুনানি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মুলতবি করেন। দুপুরে পুনরায় শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।
জানা গেছে, বাংলাদেশি বাবা-মায়ের ওই সন্তানের জন্ম কানাডায়। প্রায় ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণী কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১০ মাস আগে তার বাবা-মা বেড়ানোর কথা বলে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এরপর ওই তরুণী কানাডায় ফিরে যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, তরুণীর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে তার নানী ও মা সব সময় বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে ওই তরুণী ল্যান্ডফোনে কানাডা সরকার ও ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাই কমিশনকে তাকে জোরপূর্বক ঘরবন্দি করে রাখার কথা জানায়। ওই তরুণী কানাডায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মুগদা থানায় কানাডিয়ান হাইকমিশন থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তারপর কানাডিয়ান হাই কমিশনের পক্ষে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।









