জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে অবস্থিত টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসিতে ‘লিডারশিপ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে’ অংশগ্রহণ করেছিলেন। শুক্রবার ওই স্কুলের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী এবং নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের মধ্যে এক বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে।
নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেট থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ফ্লেচার স্কুলের ডিনের উপদেষ্টা জেরার্ড শিহান, অধ্যাপক আলনূর ইব্রাহিম, ভর্তি ও বৃত্তি শাখার পরিচালক ড্যানিয়েল বার্ডসাল, নির্বাহী শিক্ষা বিভাগের জেষ্ঠ্য পরিচালক হিলারি প্রাইস এবং সহযোগী পরিচালক জেনি স্ট্র্যাকোভস্কি উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে ডিনের উপদেষ্টা জেরার্ড শিহান ১৯৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফ্লেচার স্কুলে ‘লিডারশিপ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে’ অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার ফ্লেচার স্কুলে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের কথা উল্লেখ করেন। ফ্লেচার স্কুল বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় গর্বিত এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তির কথা উল্লেখ করেন এবং এ সম্পর্কের অগ্রযাত্রায় ফ্লেচার স্কুলের ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশি ফ্লেচার গ্রাজুয়েটদের অবদান উল্লেখ করে কনসাল জেনারেল ভবিষ্যত সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার উভয়পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে আয়োজনের ব্যাপারে ফ্লেচার কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দেন।
ওই সেমিনারে গত ৫০ বছরে দু’দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং আগামী ৫০ বছরের অগ্রযাত্রার রূপরেখার ওপর আলোকপাত করা যেতে পারে বলে মতপ্রকাশ করা হয়। এছাড়া, শিক্ষা, গবেষণা ও তথ্য আদান-প্রদানের ব্যাপারে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি ও ফ্লেচার স্কুলের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহের নানা দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
এরপর ফ্লেচারে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও যোগাযোগ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন কনসাল জেনারেল।
বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কূটনীতিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিশদ আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবের মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত আলোচনা সম্পন্ন হয়। শেষে, কনসাল জেনারেল ফ্লেচার স্কুলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং এর কার্যাবলী সম্পর্কে অবহিত হন। ফ্লেচার স্কুলে কনসাল জেনারেলের সফর ও বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও প্রসারিত হবে বলে আশা করা যায়।









