রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দা রত্না ও তার ছেলেকে তুলে নিয়ে থানায় আটকে রাখার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৯ বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতিতে তারা কলাবাগান তেঁতুলতলা মাঠ শিশু-কিশোরদের খেলার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতি দেওয়া নাগরিকরা হলেন, আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, সারোওয়ার আলী, আবেদ খান, সেলিনা হোসেন, আবদুস সেলিম, লায়লা হাসান, মফিদুল হক, মামুনুর রশীদ, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবীর, মুনতাসীর মামুন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ ও হারুণ হাবীব।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘যেকোনও প্রকার প্রতিবাদ করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদকারীকে এ দেশে গ্রেফতার হতে হয়। এভাবে মত প্রকাশে বাধা দেশকে স্থবির করে দিচ্ছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দ্ব্যর্থহীন বলতে চাই যে শত পথ শত মতের দেশ বাংলাদেশ, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য নির্মাণের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। পুলিশ সৈয়দা রত্না ও প্রিয়াংশুকে খেলার মাঠের দাবি আদায়ের আন্দোলন থেকে সরে আসবে—এ রকম মুচলেকায় ন্যক্কারজনকভাবে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের মুক্তি দিয়েছে বলে আমরা গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা এই হীন মুচলেকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
এতে আরও বলা হয়, আমরা কলাবাগান তেঁতুলতলার মাঠটিকে খেলার মাঠ হিসেবেই দেখতে চাই। কলাবাগান থানা ভবনের জন্য অন্য কোনও জায়গা খুঁজে ভবন নির্মাণের পরামর্শ দিচ্ছি। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পুলিশ প্রশাসনকে কলাবাগান থানা ভবনের জন্য অন্য কোথাও স্থান নির্ধারণের যে পরামর্শ দিয়েছেন তা আমরা সমর্থন করি।
তারা আরও বলেন, আমরা এ প্রসঙ্গে ঢাকাসহ দেশের সব শহরে শিশু-কিশোরদের পরিপূর্ণ বিকাশের উপযুক্ত মাঠ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত স্থানের অপ্রতুলতার কথা সরকার ও প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর আশু সমাধানের দাবি জানাই।
বিবৃতিতে সৈয়দা রত্না ও তার পুত্র প্রিয়াংশুকে তাদের প্রতিবাদ এবং সাহসী সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টির জন্য সাধুবাদ ও অভিবাদন জানানো হয়।









