মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন আগাম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতো। সেই প্রলোভনে পড়ে অনেকে প্রতারক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশ্ন পাওয়ার আশায় খুইয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়ে চম্পট দিতো চক্রের সদস্যরা। টাকা পাওয়ার পর ফেসবুকে ব্লক করে দেওয়া হতো প্রশ্নপত্রপ্রত্যাশীদের। এমনই একটি প্রতারক চক্রের সদস্য মোহাম্মদ শাহিন আলম (২৪)। তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি’র সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ডিভিশন। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তের মাধ্যমে গত ২২ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার একটি চায়ের দোকানের পাশ থেকে শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মোবাইল ফোন, ৩টি সিম।
সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার শাহিন আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি খুলে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্ন সরবরাহ করবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে পোস্ট করতো। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিতো। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করতো। কেউ রাজি থাকলে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য অ্যাডভান্স বাবদ ৫০০০ টাকা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে নিতো। অ্যাডভান্স টাকা দেওয়ার পর ব্লক করে দেওয়া হতো প্রশ্নপত্রপ্রত্যাশীদের। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করত চক্রটি। আদৌ তাদের কাছে প্রশ্ন আসতো কিনা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে সে এ ধরনের প্রতারণার কাজ চালিয়ে এসেছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রেফতার শাহিন আলমের সঙ্গে এই প্রতারণায় আর কারা জড়িত এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফেইক আইডি তৈরি করে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাড়াও আর কোন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৪০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিডি জব সার্কুলার নামে একটি গ্রুপে সরব ছিল সে। বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পোস্ট করতো।
ডিএমপি’র সিটিটিসি ইউনিটের সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাঈদ নাসরুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রেফতার শাহিন আলম নিজের পরিচয় গোপন করে ছদ্মবেশে বিভিন্ন ফেইক আইডির মাধ্যমে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা বলে লোকজনদের কাছ থেকে প্রতারণা করে আসছিল। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার পর প্রশ্নপত্রপ্রত্যাশীদের ফেসবুকে ব্লক করে দিতো। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে আদৌ জড়িত কিংবা সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা— বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা বলে সে শুধু প্রতারণার আশ্রয় নিতো কিনা— এ বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।









