মসজিদের দরজা খোলা রাখায় রাজধানীর হাজারীবাগে মসজিদ ভর্তি মুসল্লিদের সামনে সত্তরর্ধ্ব এক মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দুলাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ। উল্টো মিমাংসার জন্য ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হককে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তার হোসেন বলেন, ‘ধরাধরির ঘটনায় কী মামলা হবে? এটা স্থানীয়ভাবে একবার মীমাংসা করা হয়েছে। তারপরও আমরা দু’জনকে ডেকেছি, কথা শুনেছি। দুজনেরই দোষ আছে। এ ঘটনায় মামলা হয় না।’
এদিকে সোমবার (৯ মে) রাতে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা দুলাল হোসেনকে ডেকে হাজারীবাগ থানার পুলিশ তার বক্তব্য শোনেন।
আজ মঙ্গলবার (১০ মে) সকালে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হককেও ডাকা হয়। তবে তাকে থানায় ডেকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি এখন থানায়। আমাকে ডাকা হয়েছে। আমি আমার বক্তব্য বলে যাবো। চারদিক থেকে যেভাবে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এটাই আমি ওসি সাহেবকে বলে যাবো।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর দুলালের লোকজন দলবেঁধে আমার বাসায় আসে, আমাকে হুমকি দেয়, মীমাংসা করতে বলে। হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের নেতারাও আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমাকে মারলো, আবার আমাকেই ভয়ভীতি দেখায়। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা।’
গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার হাজারীবাগ থানা এলাকার নীলাম্বর সাহা রোডস্থ বাইতুর রহমান জামে মসজিদ কমিটির আমন্ত্রণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল হয়। মসজিদ কমিটির সদস্য হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকও। মসজিদে প্রবেশের সময় তিনি দরজা খুলে রাখেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে মসজিদে তর্কে জড়ান স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক দুলাল হোসেন। মসজিদ ভরতি মুসল্লিদের সামনেই মুক্তিযোদ্ধাকে কিল-ঘুষি মারেন দুলাল।
মসজিদটি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের বাসার পাশেই। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুসল্লিদের সামনে মারধরের পর লজ্জায় ঘর থেকেই কয়েকদিন বের হননি তিনি। এখনও মসজিদে যেতে পারেন না লজ্জায়।
ফজলুল হক বলেন, ‘ওই ঘটনার পর পরই আমি হাজারীবাগ থানায় একটি অভিযোগ দেই, কিন্তু আমার অভিযোগটা নেয়নি পুলিশ। এত দিনেও কোনও ব্যবস্থা করেনি।’
আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মারধর, লজ্জায় ঘর থেকেই বের হন না বীর মুক্তিযোদ্ধা









