স্বাস্থ্য অধিদফতরে নন-মেডিক্যাল কর্মচারী ও স্বাস্থ্য সহকারীদের অবৈধভাবে পদোন্নতি ও অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলা ট্রিবিউনে ‘অবৈধ পদোন্নতির হিড়িক স্বাস্থ্য অধিদফতরে’ শিরোনামে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরে নন-মেডিক্যাল কর্মচারী ও স্বাস্থ্য সহকারীদের পদের অনেকেই অবৈধভাবে পদোন্নতি নিয়েছেন। কেউ কেউ পদোন্নতি নিয়ে অবসরেও গেছেন।
১৯৮৫ ও ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য বিভাগীয় নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহকারী পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে পরিসংখ্যানবিদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক হওয়ার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য সহকারী থেকে শুধু সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সিনিয়র স্বাস্থ্য পরিদর্শক, এমটি ইপিআই হওয়া যায়। কিন্তু স্বাস্থ্য সহকারী থেকে অনেকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি নিয়েছেন।
এসব পদোন্নতির নেপথ্যে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ মো. হাসান ইমামের ব্যক্তিগত অফিস সহকারী আহসান সাইদ এরশাদ। তিনি এসব পদোন্নতিতে ‘সহায়তা’ করেন। এই কর্মচারী নিজেও ছিলেন স্বাস্থ্য সহকারী। অবৈধভাবে পদোন্নতি নিয়ে হয়েছেন ব্যক্তিগত অফিস সহকারী। এরকম অনেকেই অবৈধ ভাবে পদোন্নতি নিয়েছেন, যা চাকরি বিধিতে নেই।
গত ২৮ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম বজলুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক নোটিসে আগামী ২৪ মে আহসান সাইদ এরশাদকে দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য, তথ্য ও উপাত্ত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিসে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, ‘আহসান সাইত এরশাদ ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তথ্য গোপন, জালিয়াতির মাধ্যমে পদোন্নতি গ্রহণ, অন্যকে পদোন্নতি পেতে সাহায্য করা,নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।’
যারা যারা এসব অবৈধ পদোন্নতি নিয়েছে ক্রমান্বয়ে সবাইকে ডাকা হবে বলেও জানিয়েছে দুদক।
বজলুল রশীদ জানান, আগামী ২৫ মে সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এরশাদকে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।
এরশাদ বর্তমানে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত। এর আগে বাংলা ট্রিবিউনে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) এর ব্যক্তিগত সহকারীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।









