আসন্ন বাজেটের ৪০ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ করাসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট। বুধবার (১ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সমাবেশে তারা এ দাবি জানায়।
দাবিগুলো হলো:
সার, বীজ, কীটনাশক, বিদ্যুৎ, সেচসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানো। উৎপাদন খরচের সঙ্গে ৪০ শতাংশ বাড়তি যুক্ত করে কৃষি ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা। প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয় করা। সহজ শর্তে সুদমুক্ত কৃষি ঋণ প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা। সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও দাবি হলো, কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিতে হবে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমাতে হবে। ক্ষেতমজুরদের সারা বছরের কাজ ও খাদ্যের নিরাপত্তাসহ গ্রাম-শহরের শ্রমজীবীদের আর্মি রেটে রেশন ও ভূমিহীনদের আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, কর্মসৃজন প্রকল্পসহ সামাজিক নিরাপত্তার গ্রামীণ প্রকল্পে ঘুষ, দুর্নীতি, দলীয়করণ বন্ধ করে প্রকল্প বরাদ্দ ও উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
এছাড়া বন্ধ পাটকল, চিনিকল চালু করা এবং কৃষিভিত্তিক নতুন শিল্প-কারখানা নির্মাণ করা; সব শ্রমজীবী, স্বল্প আয়ের মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা; আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিতসহ সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে নদী-খাল-জলাশয় দখল-দূষণ ও বন ধ্বংস বন্ধ করার দাবি করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, বিদ্যুৎসহ সব কৃষি উপকরণের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সার, বীজ, কীটনাশকে ভেজাল দিয়ে মুনাফা লুটছে। কৃষক লাভজনক দাম তো দূরের কথা, ফসলের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। ফলে ক্ষুদ্র কৃষক জমি হারিয়ে ভূমিহীন এবং মাঝারি কৃষক গরিব কৃষকে পরিণত হচ্ছে। খরা, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, সরকার উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশের ঢোল বাজাচ্ছে, অথচ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষককে আগাম আবহাওয়া সতর্ক বার্তা দিতে পারছে না। কৃষি সতর্ক বার্তা দিতে না পারা এবং বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি-দলীয়করণের ফলে ভারত থেকে আসা ঢলে হাওর এলাকায় ফসল ডুবে গিয়ে কৃষক /জেডএ/আইএ/সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।









