রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগ পর্যন্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে জোর দিতে হবে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নেটজ পার্টনার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত এক সেমিনারে এই ভাবনা তুলে ধরেন বক্তারা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিইব’র নির্বাহী পরিচালক, ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক অনারারি মেম্বার ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সহায়তা কর্মসূচির কর্মসূচি প্রধান শাশ্বতী বিপ্লব, ইউএনএইচসিআরের সিনিয়র প্রোটেকশন অফিসার শুভাস ওয়াস্তে এবং পল্লীশ্রীর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম।
এছাড়া সেমিনারে বিভিন্ন জেলার মানবাধিকার কর্মী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন, নেটজ-এর পরিচালক শহিদুল ইসলাম এবং ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন গবেষক আসিফ মুনীর ও দীনা নারগিস।
গবেষণা প্রবন্ধে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিদ্যমান কয়েকটি দ্বন্দ্বের ঘটনাকে পদ্ধতিগতভাবে নিবিড় বিশ্লেষণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পদক্ষেপ কী হতে পারে এ বিষয়ক কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
পল্লীশ্রীর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম বলেন, গবেষণায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো ব্যবহার করে সকল ধরনের দ্বন্দ্ব রূপান্তর সম্ভব।
শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, মানবিক সহায়তা না থাকলে কী হবে সেই বিষয়ে ভাবতে হবে। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। যতদিন তাদের প্রত্যাবর্তন না হয় ততদিন পর্যন্ত তাদের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতাবৃদ্ধি কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার।
ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে সুশাসন জোরদার করতে হবে এবং আইনের যথার্থ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পে গড়ে ২৬টি এনজিও কাজ করছে। এতে দেখা যাচ্ছে একই কাজ অনেকেই করছে। ফলে একদিকে যেমন চাহিদাভিত্তিক প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে অন্যদিকে একই ব্যক্তি একই ধরনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেবা পাচ্ছে। এত করে সম্পদের অপব্যবহার হচ্ছে। মানবিক সহায়তকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
ড. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে শান্তি স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যারা কাজ করবে তাদেরও পদ্ধতিগত দক্ষতা থাকা দরকার।
ইউএনএইচসিআরের সিনিয়র প্রোটেকশন অফিসার শুভাস ওয়াস্তে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল সমাধান মিয়ানমারের কাছে। যখন তাদের প্রত্যাবর্তনের সময় হবে তাদের মধ্যে প্রত্যাবর্তনের আশা ও আত্মবিশ্বাস যেন বজায় থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।








