ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর সাবেক ভিপি ও অধ্যক্ষ মাহফুজা খানম বলেছেন, ‘রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া একমাত্র নারী ছিলেন সেলিনা পারভীন। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে কোনোভাবে স্বীকৃতির কথা নেই, তার নাম উচ্চারিত হয় কিনা আমার জানা নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল, তাকে আগামী প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা। কিন্তু সরকারিভাবে সেটা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ‘নারী সাংবাদিক কেন্দ্র’ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের নামে পদক দিচ্ছে, এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
বৃহস্পতিবার (২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সাংবাদিকতা পদক ২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এবারের সেলিনা পারভীন সাংবাদিকতা পদক পেয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কাবেরী মৈত্রেয় ও দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ সংবাদদাতা রোজিনা ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ মাহফুজা খানম বলেন, আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, নারীদের একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের নারী সমাজও সেই জায়গাটি পাওয়ার জন্য শ্রম, মেধা, মনন দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
দৈনিক আজকের পত্রিকা’র সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকতায় নারীরা এগিয়ে আসছেন, তারপরও সংখ্যায় সেটা খুব বেশি নয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও নারীদের প্রতিনিধিত্ব নেই। এটা যুগ যুগ ধরে মেনে আসছি। নারীদের এসব বিষয়ে তুলে আনতে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রসঙ্গত, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র ২০১৯ সালে ‘শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সাংবাদিকতা’ পদক প্রবর্তন করে। করোনার কারণে গত দুই বছর পদক বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবারের পদক বিতরণে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন সেলিনা পারভীনের ছোট ভাই ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন এবং সেমস গ্লোবাল।
বাংলাদেশ নারী কেন্দ্রের সভাপতি নাজমুন আর হক মিনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সেলিনা পারভীনের পুত্রবধূ কাজী রাকসিন্দা জাবীন, তার বোনের মেয়ে মেহেরুন নিসা ইসলাম প্রমুখ।









