চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে দগ্ধ সিকিউরিটি ম্যানেজার এ কে এম মাখফারুল ইসলাম বর্তমানে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন।
রবিবার দুপুরে মাখফারুলের ছোট ভাই আসাদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার হাত, পা এবং মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেমিক্যালে। চোখ ফুলে আছে কিন্তু খুলতে পারছে না।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৩ সালে এএসপি পদে পুলিশের চাকরি থেকে অবসর নেন মাখফারুল। এরপর বি এম কন্টেইনার ডিপোতে সিকিউরিটি ম্যানেজার হিসেবে চাকরি নেন। তার একটি কন্যাসন্তান আছে। স্ত্রীসহ সন্তান ঢাকার উত্তরাতে থাকতেন।
মাখফারুলের ভাই আসাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘তার সঙ্গে গতকাল রাত পৌনে দশটায় কথা হয়েছে। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের এখানে আগুন লাগসে, ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছে’। আমি ভাবলাম হয়তো সাধারণ আগুন। ঘুমানোর আগে ভাবলাম একটু খবর নেই। রাত ১২টার দিকে আমি ফোন দিয়ে দেখি মোবাইল বন্ধ। তখন প্রায় সোয়া ১২ টার দিকে আমার বোনকে ফোন দিয়ে জানলাম যে এরকম ঘটনা। সেখান থেকে পার্কভিউ ক্লিনিকে নিয়ে গেছে। তার অফিস থেকে ক্লিনিকের একটা নাম্বার দিয়েছে আমরা সেখানে যোগাযোগ করি। সেখানে কথা বলে আমরা ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করি। রাত একটা থেকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স খোঁজ শুরু করি। এরকম একটা জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য ছিল। রাত সাড়ে তিনটা চারটার দিকে একটা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করি। সকালে সাড়ে সাতটার দিকে এখানে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্স।’’
তিনি আরও বলেন, এখানে আসার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। প্রথমে তাকে এইচডিইউতে নেওয়া হয়, পরে আইসিইউতে।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিএমডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীও আছেন। এছাড়া আহত অনেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চার জন শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন শিল্প পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান (৩৭), ডিপোর সিকিউরিটি অ্যাডমিন খালেদুর রহমান (৫৮) ও সিকিউরিটি ম্যানেজার একেএম মাখফারুল ইসলাম (৬৫)।
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আহতদের অবস্থা ক্রিটিক্যাল। একটি কন্টেইনার বিস্ফোরণ হয়েছে। কিছু উৎসুক মানুষ ছিল যারা ঘটনাটি দেখতে গেছে। আগুনের ফুলকি কারও গায়ে লেগেছে, কারও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। একজনের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এরকম বিভিন্ন ঘটনা সেখানে ঘটেছে। কেউ যে শঙ্কামুক্ত এটা বলা যাবে না। সবাই ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছে।









