রাজধানীর জুরাইনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে আইনজীবী ও জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্টের নথি তলবের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য সোমবার (১৩ জুন) দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
চেম্বার জজ আদালতের আদেশের বিষয়টি রবিবার (১২ জুন) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে অবহিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার এ তথ্য আদালতকে জানিয়েছেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘রবিবার সকালে বিশেষ চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন। সোমবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে।’
পরে হাইকোর্ট মামলাটির শুনানি মুলতবির আদেশ দেন।
এর আগে গত ৭ জুন সকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আদালতে আসার পথে আইনজীবী দম্পতি, ঢাকা আইনজীবী সমিতির দুই জন সদস্য সোহাবুল ইসলাম রনি ও তার স্ত্রী ইয়াসিন জাহান নিশানের সঙ্গে জুরাইন পুলিশ বক্সের কাছে একজন ট্রাফিক সার্জেন্টের বাগবিতণ্ডা ও নারী আইনজীবীকে হেনস্তার ঘটনার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় দুই আইনজীবীসহ অপর বিজ্ঞ আইনজীবী ইয়াছিন আরাফাত ভূঁইয়াকে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে এবং অজ্ঞাতনামা ৩৫০/৪০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গত ৮ জুন তিন আইনজীবীকে আদালতে তোলা হয়। এরপর পুলিশী হেফাজতে তাদের মধ্যে বিশেষ করে সোহাবুল ইসলাম রনিকে নির্যাতনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি অপর দুই আইনজীবীর জামিন আবেদন নাকচ করে পুলিশী আবেদনে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন। পরে আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে সে রিমান্ড আদেশ মৌখিকভাবে ১২ জুন পর্যন্ত পেন্ডিং রাখার আদেশ দেন বিচারক।
এদিকে রাজধানীর জুরাইনের ঘটনায় দুই আইনজীবীকে রিমান্ডে নেওয়ায় ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ ফজলে ইলাহী। গত ৯ জুন দায়ের করা রিটটির শুনানি নিয়ে জুরাইনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে আইনজীবী ও জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার নথি তলব করেন হাইকোর্ট। রবিবারের (১২ জুন) মধ্যে নিম্ন আদালতকে এসব নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে বলা হয়। একইসঙ্গে ওই মামলায় দুই আইনজীবীকে রিমান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এসব আদেশ দেন।
সেদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জরুল হক, ব্যারিস্টার অনিক আর হক সহ শতাধিক আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী ও শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।









