দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে এবার ঈদে দ্বিগুণ আনন্দ। বাড়ি ফেরা নিয়ে আর কখনই ভোগান্তিতে পড়বে হবে না তাদের। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর হাত ধরে দূরপাল্লার গণপরিবহন ও রেন্ট-আ-কার পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।
এতে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটা সাময়িক।
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে, উদ্বোধনের পরপর সেতু পারাপারে যানবাহনের চাপ ব্যাপক থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে আসে। টোল প্লাজায় কোনও যানবাহনকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। তবে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পিকআপ ভ্যানে করে সেতুর ওপর দিয়ে পার হচ্ছে মোটরসাইকেল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নদীর ওপারের জেলাগুলোর মানুষ তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সহজেই সেতু পার হয়ে ঢাকায় আসতে পারছেন। আবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় চলাচলকারী দূরপাল্লার গাড়ির যাতায়াতও বেড়েছে। সব মিলিয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি কমেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোর মানুষের গাড়িতে পদ্মা পার হওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। বেড়েছে দূরপাল্লার গাড়ির সংখ্যা। অনেক কোম্পানি নতুন গাড়ি নামাতে শুরু করেছে। ওই গাড়ি আবার ঢাকায় ঢুকছে বলে কিছুটা চাপ বেড়েছে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায়।
ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, স্বপ্নের সেতু চালু হওয়ায় এটি দেখতে যাচ্ছেন অনেকে। এ জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির যাতায়াত বেড়েছে। এটি সাময়িক। ঈদের পরে কমে আসবে। তবে তাদের মতে, সেতু পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ঈদযাত্রা গাড়ির সংখ্যা বাড়বে।
এ বিষয়ে লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের ফুলবাড়িয়া জোনের সহকারী কমিশনার সালাহউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পদ্মা সেতুতে যান চলাচল বাড়ায় কিছুটা চাপ তো ঢাকায় পড়বেই। তবে সেটি নিয়ন্ত্রণে আমরা সক্রিয়। আশা করি, এ ক্ষেত্রে তেমন কোনও সমস্যা হবে না।
লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মেহেদি হাসান জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর পর ঢাকায় গাড়ির চাপ বাড়লেও এখন স্বাভাবিক। যানবাহন যাতে মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ না হতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা তৎপর আছি।









