দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার (১৬ জুলাই) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
নড়াইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তিও দাবি করেন তিনি। এ হামলার প্রতিবাদে ২২ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা গণ-অনশন কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়।
ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, এখন সময় হয়েছে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সরকার যদি অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেয় তবে আগামী ২২ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা গণঅনশন কর্মসূচি পালন করবে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক-সামাজিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন পরিষদের অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ ভৌমিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশানের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার বলেন, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকার পরও একের পর এক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। একটি কথা বলা হচ্ছে— আর হবে না। আমরা আর দেখতেও চাই না, অপেক্ষাও করতে চাই না।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য শুভ্রত চৌধুরী, শ্রী কাজল দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায়, শ্রী জয়ন্ত কুমার দেব, শ্রী মনীন্দ্র কুমার নাথ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমনা গুপ্তা, শিক্ষক ঐক্য পরিষদের অরুণ কুমার গোস্বামী, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অশীথ কুমার রায় শিশির, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশানের মহাসচিব হেমন্ত আয় কোড়াইয়া, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সদস্য সচিব পলাশ কান্তি দে, আইনজীবি ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপম চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি অলকা ঘোষ, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার তাপস ধর, সনাতন সংগঠনের ঢাকা মহানগর ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজু চৌধুরী বক্তব্য দেন।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিল বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, সনাতন সংগঠন, বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশান ও বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ।
সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।









