ট্রেনের টিকিট কাটা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সূত্রপাতে সেবা প্রদানে সহজ (জয়েন্ট ভেঞ্চার-জেভি) কোনও অবহেলা করেনি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সোমবার (২৫ জুলাই) সহজ জেভি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সহজ টাকা না পাওয়ায় টিকিট ইস্যু হয়নি। রনির মোবাইল ওয়ালেটে টাকা সাময়িকভাবে ফ্রিজ হয়ে ছিল, যা যথাসময়ে আনফ্রিজ হয়ে গিয়েছিল।
সহজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা কাদির বলেন, টিকিট সংক্রান্ত যেকোনও ভোগান্তি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। যদিও মহিউদ্দিন রনির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ব্যাংকের পেমেন্ট রিকনসিলিয়েশন পলিসির সব নিয়ম মেনেই যথাযথ সেবা প্রদান করা হয়েছে। সহজ লিমিটেড দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করেনি।
আরও পড়ুন:
সময়মতো দাম পরিশোধ না করা থেকেই জটিলতার সূত্রপাত
বেঁধে দেওয়া সময়ে রেলওয়ের জবাবের পরেও আন্দোলনে রনি!
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মহিউদ্দিন হাওলাদার রনি গত ১৩ জুন সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট পোর্টালে ঢাকা থেকে রাজশাহীর চারটি টিকিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ওই সময় তার এমএফএস অ্যাকাউন্টে (বিকাশ) পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তিনি সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে তার মোবাইল ওয়ালেটে তিন হাজার টাকা জমা করেন। তিনি ৯টা ৩৭ মিনিটে টিকিটের ২ হাজার ৬৮০ টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী ১৫ মিনিটের মধ্যে ট্রানজেকশনটি (লেনদেন) সম্পন্ন করতে না পারায় উক্ত টিকিট বুকিং বাতিল হয়ে যায়। আমাদের ডিজিটাল রেকর্ড অনুসারে উল্লেখিত তারিখে ওই গ্রাহকের নামে কোনও টিকিট ইস্যুই হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী ই-টিকিট পোর্টালের সব শর্ত মেনে নিয়েই মহিউদ্দিন রনির টিকিট কেনার কথা থাকলেও তা পূরণ করতে তিনি ব্যর্থ হন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মহিউদ্দিন রনির টিকিটের কোনও টাকা তার মোবাইল ওয়ালেট থেকে সহজ জেভি’র অ্যাকাউন্টে জমাও হয়নি; বরং টাকাটি তার নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ অবস্থায় ছিল। যেহেতু গ্রাহকের টিকিটটি শর্তানুযায়ী সাকসেসফুলি ইস্যু হয়নি তাই তার মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রোভাইডার পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের ভেতরে স্বয়ংক্রিয় রিকনসিলিয়েশন পদ্ধতিতে আনফ্রিজ করে গ্রাহককে দিয়ে দেয়। এটি একটি পরীক্ষিত, নিরাপদ ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত রিকনসিলিয়েশন পদ্ধতি। প্রতিষ্ঠানভেদে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রিকনসিলিয়েশন পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে।
টাকা ফেরতদানের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রেলওয়ের টিকিটিং ওয়েবসাইটের (www.eticket.railway.gov.bd) সব নিয়ম ও শর্ত মেনেই মহিউদ্দিন রনিকে সেবা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী (যা টিকিটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটেও উল্লেখ আছে) ৮ কর্মদিবসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করায় রনি পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তার টাকা ফেরত পেয়ে যান।
রনি দুই মিনিটে সেবা পেয়েছিলেন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট সংক্রান্ত সহায়তা মেইলে ([email protected]) মহিউদ্দিন রনি যোগাযোগ করলে (১৩ জুন, সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে) তাকে দুই মিনিটের ভেতর (১৩ জুন, সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে) প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে রিপ্লাই দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ই-মেইলের কোনও জবাব দেননি।
রনির উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ছিল, তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের গোপন পিন নম্বর ছাড়াই টাকা কাটা হয়েছে, যা একেবারেই সঠিক নয়। তার মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রোভাইডার এ বিষয়ে সব তথ্য-প্রমাণ ইতোমধ্যে তাকে উপস্থাপন করেছে।









