সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে গঠিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনে কাজ করছে। এ ধরনের কাজে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা আরও এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন সংগঠনটির সদস্যরা।
শনিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন এবং ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস’র উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত।
তিনি বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে অনুযায়ী, পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে মাত্র ৩০০ টাকা জরিমানা হয়। এটা বন্ধ করা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা ১৫৩ জন সংসদ সদস্যের সই করা চিঠি দিয়েছি। এটা বিশ্বের আর কোথাও হয়নি।’
ডা. মিল্লাত বলেন, ‘আগে একটা সময় সংসদ সদস্যরা তামাকের পক্ষে চিঠি দিতেন। সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তামাকের কর বাড়ানোর সুপারিশ জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে ৮৬ জন সংসদ সদস্যের সই করা চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা ৪০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে কক্সবাজারে তামাক-বিরোধী কনফারেন্স করেছি। আশা করি, খুব দ্রুতই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো।’
এর আগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় তামাক আইন সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজাম আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর দেশের মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, যার অন্যতম কারণ তামাক ও তামাকপণ্যের ব্যবহার। বিদ্যমান আইনের কিছু ফাঁকফোকরও আছে। বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে জনসম্মুখে ধূমপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের লীড পলিসি অ্যাডভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম, রত্নগর্ভা ফরিদা জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফরিদা জামান।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধি, স্কুল-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।









