রাজধানীর পান্থপথে ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামে একটি আবাসিক হোটেল থেকে নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকের (২৭) গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় তার স্বামী রেজাউল করিম ওরফে রেজা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (১৩ আগস্ট) রেজাউলকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থাকার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির। একইসঙ্গে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিত ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলম আসামি রেজাউলের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত (১০ আগস্ট) রাতে রাজধানীর পান্থপথের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গলাকাটা অবস্থায় ওই নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকার একটি মেস থেকে রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০১৯ সালে তাদের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের অক্টোবরে তারা কাজি অফিসে বিয়ে করে। তবে রেজাউলের বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয় পরবর্তীতে জান্নাতুল জানতে পারে। এ কারণেই তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাগবিতণ্ডা হতো। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়।
র্যাব আরও জানায়, ১০ আগস্ট হত্যার উদ্দেশে জান্নাতুলকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায় রেজাউল। হোটেলে রুমে ঢোকার পর তাদের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে রেজা তার ব্যাগ থেকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে জান্নাতুলের শরীরে আঘাত করেন।
জান্নাতুল মগবাজার কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্ত্রী ও গাইনি বিষয়ে কোর্স করছিলেন।









