গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একইসঙ্গে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ভিজিএফ কার্ডপ্রার্থী এক নারীকে ইউপি সদস্য কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) এ উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ পাওয়া যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বর্মণ সম্প্রদায়ের এক শিক্ষার্থীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। খবরে বলা হয়, গত ২৬ মে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে একই এলাকার হবুরচালা গ্রামের তরুণ চন্দ্র বর্মণ বেড়াতে যান। ওই সময় তরুণ বর্মণ ও ওই শিক্ষার্থী তার দাদির সঙ্গে ঘরে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তার সহযোগীদের নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যান। তরুণ বর্মণের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থী আপত্তিকর কিছু করেছেন বলে অপবাদ দেওয়া হয়। তারা মেয়েটির চুলের মুঠি ধরে চড়-থাপ্পড় দেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এমনকি তাদের মারধর করে জোর করে বিয়ে দেন ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১২ আগস্ট বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ভিজিএফ কার্ড প্রার্থী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসাইনের বিরুদ্ধে। ইউপি সদস্যের কাছে ১০ টাকা কেজিতে চাল পাওয়ার জন্য ভিজিএফ কার্ড চেয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। ইউপি সদস্য দিচ্ছি- দেবো বলে কালক্ষেপণ করেন। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে কার্ড দেওয়ার নাম করে গৃহবধূর বাড়িতে হাজির হন ইউপি সদস্য। সেখানে তিনি ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন।
মহিলা পরিষদ জানায়, এ ঘটনাদ্বয়ের সঙ্গে জড়িত ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের ও তাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। ঘটনাদ্বয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।









