লেয়ার মুরগির খামার করে সফল হয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার তাইফুল ইসলাম। শুরুতেই এ সফলতার দেখা পাননি তিনি। খামার করার শুরুতে পেরোতে হয়েছে অনেক কঠিন পথ।
অন্যান্য সফল খামারির পরামর্শে আনোয়ার শিট দিয়ে খামার গড়ে তোলার পর থেকে বদলে যেতে থাকে তাইফুলের খামারের হিসাব-নিকাশ। আর্থিক ক্ষতি থেকে লাভবান হতে শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ওই এলাকায় একজন সফল খামারি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। লাভবান হচ্ছেন আর্থিকভাবেও।
এ বিষয়ে তাইফুল বলেন, পড়াশোনা শেষে নিজ এলাকায় কীভাবে ব্যবসা করতে পারি, সেই চিন্তা সবসময় মাথায় কাজ করতো। এরপর প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অধীনে সরকারিভাবে ট্রেনিং নিই। ট্রেনিং শেষে সাধারণ টিনশেড ঘরে ১ হাজার লেয়ার মুরগির খামার করি। কিন্তু তেমন সুবিধা করতে পারি না। খামারে আর্থিক ক্ষতি হতে থাকে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে খামারিদের সঙ্গে আলাপ করি ও পরামর্শ নিই। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলি ও খামার ঘুরে দেখি। লেয়ার মুরগির খামার করে তারা লাভবান হচ্ছেন। তাদের সবার মুরগির ঘর আনোয়ার শিট দিয়ে তৈরি। আমিও সিদ্ধান্ত নিই, এই শিট দিয়ে মুরগির ঘর তৈরি করবো।
তাদের থেকে জানলাম, ওই শিট ব্যবহারে গরমে মুরগির ঘর ঠান্ডা আর শীতে গরম থাকে। তাছাড়া মুরগির ঘরে লিটারের একটা গ্যাস বের হয়। ওই গ্যাসের কারণে সাধারণ টিনে মরিচা ধরে। কিন্তু আনোয়ার শিটে সেটা হয় না।’
তাদের পরামর্শ নিয়ে আমিও এই শিট দিয়ে মুরগির ঘর তৈরি করি। এতে গরমে ঘর ঠান্ডা থাকে, ঠান্ডায় থাকে গরম। মুরগি খাবারও খায় ঠিকমতো। এর ফলে ডিমের উৎপাদনও বাড়ে। এখন আমার ১৫ হাজার লেয়ার মুরগি আছে। প্রডাকশনে আছে ১৩ হাজারের বেশি। এতে প্রতিদিন ডিম আসে ১১ হাজারের মতো। সাধারণ সি আই শিটের শেডে একটি লেয়ার মুরগি তার জীবনকালে ডিম দেয় ৭৫ সপ্তাহের মতো। আনোয়ার শিটের শেডে আমি একেকটা মুরগি থেকে একশ’ সপ্তাহ পর্যন্ত ডিম পেয়েছি।
তাইফুল জানান, হঠাৎ জোরে বৃষ্টি হলে ঘরে একটা শব্দ হয়। এতে মুরগি ভয় পাওয়ার পাশাপাশি কাঁপতে পারে। ভয় পেলে কম খায়। এতে উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু আনোয়ার শিট ব্যবহারের ফলে ঘরে কোনও বড় শব্দ হয় না। এছাড়া আনোয়ার শিটের পক্ষ থেকে নানা সময় বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে খামার সংক্রান্ত নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়, যা খামার ব্যবসায় সহায়ক।









