২১ আগস্ট হামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে যা ছিল

উদিসা ইসলাম
২১ আগস্ট ২০২২, ১৩:০৬আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ১৩:০৬

বিরোধী দলকে নির্মূল ও নেতৃত্বশূন্য করতে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের জনসভায় ইতিহাসের জঘন্যতম গ্রেনেড হামলা করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা) শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে এই হামলার ঘটনায় হওয়া মামলার রায়ে মূল হোতা তারেক রহমানকে যাবজ্জীবনসহ ১৯জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণাকালে আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, এই গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এই নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে এ আদালত মনে করেন। 

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিচারক বলেন, সাধারণ জনগণ সহিংসতার রাজনীতি চায় না। আদালতও চায় না, সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর নৃশংস হামলা, রমনা বটমূলে সংঘটিত বোমা হামলা কিংবা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো হত্যা-সহিংসতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক।

আদালতের পর্যালোচনায় উঠে আসে, মামলার আসামিরা অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সভা করে পরিকল্পিতভাবে এ মামলার ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সামনে ঘটনার তারিখ ও সময় মারাত্মক সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা ও কয়েকশ নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করে। এ মর্মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে আসামিদের শাস্তি প্রদান যুক্তিসঙ্গত বলে এ আদালত মনে করে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস এ হামলা ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে? এটা কাম্য নয়।

বিচারক বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সামনে যুদ্ধে ব্যবহৃত স্পেশালাইজড মারণাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশ্ন ওঠে, কেন এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার?

বিচারক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। সে ঘটনার বিচার যেন না হয়, সে চেষ্টা চালায়। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে দেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু হয়। জাতির পিতাকে হত্যার পর চার জাতীয় নেতাকেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। তাতেও ষড়যন্ত্র থামেনি। পরে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে ফের নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়।

বিচারক মনে করেন, বিরোধী দলীয় নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়। এই রায়ের পর্যবেক্ষণেই বিচারক বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই থাকবেন বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদারনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

/এমআর/
সম্পর্কিত
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: সব আসামির খালাসের সংক্ষিপ্ত রায় প্রকাশ
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রপক্ষ
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ: কায়সার কামাল
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম