চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার বাদী তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।
সোমবার (২২ আগস্ট) মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের সময় শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ দায়রা আদালতে ফেরত পাঠানোর একটি আবেদন করে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জাকির হোসেনের আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দায়রা আদালতে ফেরত পাঠানোর আবেদন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ জানান, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর ১০(৪) ধারা মোতাবেক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচারের সময় শেষ। আইন অনুযায়ী, মামলাটি আর এই আদালতে চলতে পারে না। তাই আমরা মামলাটি দায়রা আদালতে ফেরত পাঠানোর আবেদন করেছি। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন— ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজ, ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম, সেলিম খান, দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ও আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী, তারিক সাঈদ মামুন, হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন ওরফে বস লিটন, আদনান সিদ্দিকী ও ফারুক আব্বাসী।
বনানীর ১৭ নম্বর রোডের আবেদীন টাওয়ারে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান নায়ক সোহেল চৌধুরী। ওই ঘটনায় সোহেল চৌধুরীর ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী রাজধানীর গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর দুই বছর পর মামলাটির বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এ পাঠানো হয়।
ওই বছরই এক আসামি মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সাল থেকে হাইকোর্টের আদেশে মামলার বিচারকাজ স্থগিত ছিল৷ ২০১৫ সালে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়। তারও সাত বছর পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলার নথি বিচারিক আদালতে ফেরত আসলে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেন বিচারিক আদালত।









