বন্দি হাতিকে নির্যাতন বন্ধে বন বিভাগের জরুরি পদক্ষেপের দাবি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ আগস্ট ২০২২, ১৮:১৬আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ১৮:২৮

বাংলাদেশের বন্দি (ক্যাপটিভ) হাতিরা বংশ পরম্পরায় দাস হয়েই বেঁচে থাকছে উল্লেখ করে এসব হাতির ওপর নির্যাতন বন্ধে বন বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। সেইসঙ্গে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে একযোগে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। 

এতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান স্থপতি রাকিবুল হক এমিল বলেন, ‘এশিয়ান হাতি বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ এশিয়ান হাতির আদি নিবাস ও বিচরণের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে প্রধানত তিনটি ক্যাটাগরিতে এশিয়ান হাতি রয়েছে যেমন পরিযায়ী হাতি, বাংলাদেশের বনাঞ্চলে বসবাসকারী হাতি এবং বন্দি হাতি। এর মধ্যে কিছু হাতি দিয়ে দেশের পথেঘাটে দোকানে দোকানে ঘুরে চাঁদা তুলতে এবং মাহুতের হাতে থাকা ধাতব হুক লাগানো লাঠি দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য দেখা যায়। এভাবে হাতিটিকে যন্ত্রণা দিয়ে কথা শুনতে বাধ্য করানোর কাজে এই হুক ব্যবহার হয়।

বর্তমানে এই দৃশ্য নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মাঠঘাট বাজারে। হাতির পিঠে বসে থাকা কিশোর বয়সী মাহুতটি বেপরোয়া হয়ে ধাতব ছকটি দিয়ে সজোরে আঘাত করতে থাকে হাতিটিকে দোকানে দোকানে হেঁটে চাঁদা তোলার জন্য। বহুদিন ধরে প্রশাসনের বিনা বাধা ও বিনা প্রশ্নে এই অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের সাহস কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।’

২০১৯ সালের ৩ মে র‌্যাবের একজন ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে আটক করে দুটি হাতি চিড়িয়াখানায় পাঠান। কারাদণ্ড দেওয়া হয় মাহুতদের। সে বহুরই জুলাই মাসে বাংলাদেশে পাস হয় প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯। যেখানে উল্লেখ করা হয়, কোনও প্রাণীকে ধাতব কিছু দিয়ে আঘাত করাও প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে; যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনা উল্লেখ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এরপর প্রায় তিন বছর পার হলেও অন্যান্য বন্দী হাতির উপর নির্যাতন ও চাঁদাবাজি বন্ধে বন বিভাগকে উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর বাস্তব প্রয়োগ, বন্দী হাতি দখলে রাখা ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানায় সংগঠনটি। তারা বলছে, বন অধিদফতর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে হাতির প্রতি অত্যাচার বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

/এমআরএস/ইউএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম