মানবতাবিরোধী অপরাধ

কুড়িগ্রামের ১৩ আসামির অভিযোগ গঠনের তারিখ পেছালো

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:৩৬আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:৩৬

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায় কুড়িগ্রাম জেলার মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নুর ইসলামসহ (৭১) ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আসামিপক্ষে সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর মো. মোখলেসুর রহমান বাদল। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। অপরদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস শুকুর খান, গাজী এমএইচ তামিম ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

এর আগে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত সংস্থার এক সংবাদ সম্মেলনে ৮০তম প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই জন পলাতক রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের তিন ভলিউমে ৩৭৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

তদন্ত সংস্থা জানায়, এই ১৩ আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তদন্ত শেষ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি অভিযোগ পাওয়া যায়।

গ্রেফতার হওয়া ১১ আসামি হলো— মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নুর ইসলাম (৭১), এছাহাক আলী ওরফে এছাহাক কাজী (৭৩), মো. ইসমাইল হোসেন (৭০), মো. ওছমান আলী (৭০), মো. আব্দুর রহমান (৬৫), মো. আব্দুর রহিম ওরফে রহিম মৌলানা (৬৫), মো. শেখ মফিজুল হক (৮১), মকবুল হোসেন ওরফে দেওয়ানী মকবুল (৭২), মো. ছাইয়েদুর রহমান মিয়া ওরফে মো. সাইদুর রহমান (৬৪), মো. শাহজাহান আলী (৬৪), আব্দুল কাদের (৬৭)।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো—

১. ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ আনুমানিক ১০টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন পাঁচপীর রেলস্টেশনে আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ রাজাকার আ. হামিদ মওলানা ওরফে ডাগ্গিল মওলানার (বর্তমানে মৃত) নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার পিতা আব্দুল জব্বার আনছারী ওরফে আনছারী মাস্টার ও নিরীহ নিরস্ত্র পনির উদ্দিন মুন্সিকে বাড়ি থেকে অপহরণ ও নির্যাতন করে। পরদিন সন্ধ্যার সময় দুজনকে গুলি করে হত্যা করে পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে মাটিচাপা দেয়।

২. ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ফজরের পর হামিদ মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার নুর ইসলামসহ ১৫/১৬ জন দুর্গাপুর গ্রামে হামলাসহ ১০ জনকে আটক করে। এর মধ্যে মাকরু শেখকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি আর্মি। বাকি সবাইকে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিতে তওবা করিয়ে ছেড়ে দেয়।

৩. ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর আনুমানিক ভোর ৫টায় উলিপুরের পাঁচপীর রেলস্টেশনের আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ রাজাকার হামিদ মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার মফিজসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ৫/৬ জন পাকিস্তান আর্মি নিয়ে উলিপুর থানাধীন ঢেকিয়ারাম গ্রামের স্বাধীনতার স্বপক্ষের মুক্তিকামী জনতাকে অত্যাচার নির্যাতন করার জন্য হামলা চালায়। সেখানে স্বাধীনতার স্বপক্ষের ও বীর মুক্তিযোদ্ধার পিতা রজব আলী সরকারকে হাত ও চোখ বেঁধে অপহরণ ও নির্যাতন করে। এরপর তাদের হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেয়।

৪. ১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর উলিপুরের পাঁচপীর রেলস্টেশন আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ রাজাকার কমান্ডার হামিদ মওলানার (মৃত) নেতৃত্বে কাজী এছাহাকসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ৫/৬ জন পাকিস্তান আর্মি নিয়ে আওয়ামী লীগ করার কারণে পাঁচপীর গ্রামের নশির উদ্দিনকে আটক করে। তাকে নিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আ. জলিল সরকারের বাড়িতে হামলা করে ছোট ভাই আব্দুল মজিদকে আটক করে। তারপর তাকে দিয়ে গর্ত করে সেখানে তাকে গুলি করে হত্যার মাটি চাপা দেয়। বাড়িঘর লুটপাট করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

৫. ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর পাঁচপীর রেলস্টেশন আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ রাজাকার আ. হামিদ মওলানার (মৃত) নেতৃত্বে রাজাকার ইসমাইলসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ও ১০/১২ জন পাকিস্তান আর্মি আওয়ামী লীগ সমর্থন করার কারণে গোড়াই পাঁচপীর গ্রামে হামলা করে। সেখানে আকবর আলী সরকার ও আজিজার রহমানকে আটক করে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের নির্যাতন করে গুলি করে হত্যা করে।

৬. ১৯৭১ সালে ৯ অক্টোবর রাজাকার ওসমানসহ ১৫/১৬ জন রাজাকার পাক আর্মি নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুর উদ্দিন ব্যাপারির বাড়িতে হামলা, অপহরণ, নির্যাতনসহ গুলি করে হত্যা করে।

৭. ১৯৭১ সালে ২৫ অক্টোবর রাজাকার আব্দুর রহমানসহ পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলজার হোসেনকে আটক করে। এরপর ফুলজার হোসেনের পিতা হুসেন আলী ও মাতা গোজন বেওয়াকে আটক করে নির্যাতন করে। এছাড়া মোখছেদ আলীসহ ফুলজার হোসেনের দুই ভাইকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. গফুর ও আমির উদ্দিন পিতা মাতাকে দেখার জন্য বাড়িতে আসার সংবাদ পেয়ে ১৯৭১ সালের বাংলা কার্তিক মাসের ১০ তারিখে পাঁচপীর রেলস্টেশন আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ রাজাকার আ. হামিদ মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার মো. আব্দুল বারীসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ও ১০/১২ জন পাকিস্তান আর্মি লঘরটারী গ্রামে হামলা করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. গফুর ও আজিব উদ্দিনের  আশ্রয়দাতা পনির উদ্দিনকে মারপিট করে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. গফুর ও আজির উদ্দিনকে নির্যাতনসহ তাদের হত্যা করে।

৯. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রমজান মাসে অসুস্থ মাকে দেখার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত আলী বাড়িতে এসে অভিযুক্ত রাজাকারদের ভয়ে রাতের বেলায় হিন্দুদের পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। রাজাকাররা সংবাদ পেয়ে ৮ নভেম্বর সকাল ১০টার সময় হামলা করে রাজেন্দ্র চন্দ্র রায়ের বাড়ি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত আলীকে নিরস্ত্র অবস্থায় অপহরণ করে পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশন আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পে আটক করে। পরে রাতেরবেলা গুলি করে হত্যা করে।

১০. ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর দুপুর রাজাকার কমান্ডার হামিদ, রাজাকার মকবুলসহ ৪/৫ জন সশস্ত্র রাজাকার ও ১০/১২ জন পাকিস্তান আর্মি মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার কারণে মো. মফিজল হক ও তার চাচাতো ভাই নুরুল হোসেনদের বাড়িঘর লুটপাট করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

১১. ১৯৭১ সালে ১৩ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধারা কুড়িগ্রাম জেলার সদর অর্জুনডারা পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে গোলা ছুড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। এই সময়ে পাকিস্তান আর্মিরা ওসমান মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে এবং হিন্দুপাড়ায় আগুন দেয়।

১২. ১৯৭১ সালে উলিপুরে রাজাকাররা পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে বেশ কয়েটি গ্রামে হামলা চালায়। সেখানে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে। পরে সেখানে কামাল উদ্দিন, মো. নাছির উদ্দিন ও আইয়ুব আলীসহ অনেককে আহত করে। মোছা. হাছিনা বেগমকে ধর্ষণ করে। এছাড়া প্রায় ৭০০ লোককে হত্যা করে।

১৩. ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর রাজাকার নুরুল ইসলাম, কাদের ও ইছাহাক কাজীসহ ১০/১২ জন পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে যমুনা গ্রামে হামলা করে। আশেপাশের গ্রামে হামলা চালিয়ে ফরহাদ, আছর উদ্দিন বেপারিসহ ২০/২৫ জনকে হত্যা করে।

১৪. রাজাকারেরা গোড়াই মিয়াজিপাড়া গ্রামে হামলা করে দছির উদ্দিনের বাড়িতে আগুন দেয়, নিরীহ গ্রামবাসী তবির উদ্দিনকে হত্যা করে।

১৫. ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে রাজাকার ইছা খলিফাসহ রাজাকাররা মফিজ উদ্দিন সরকারকে গুলি করে হত্যা করে।

১৬. দছির উদ্দিন বেপারিকে জেলার পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেয় রাজাকারেরা।

/বিআই/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
এক মামলায় দীপু মনির জামিন, ছয়টিতে রুল
বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা নেই
বিসিবি নির্বাচন: তফসিল ও ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম