গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি চন্দন কুমার রায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেও এতদিন পলাতক ছিলেন। ভারতে পালিয়ে থেকে মাঝে মাঝে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশে এসে মাদক ব্যবসার হিসাব ও টাকা পয়সা নিয়ে চলে যেতেন। এক কথায় দেশে নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল তার। রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সমন্বয়কারী চন্দন কুমারকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পায় র্যাব।
র্যাব বলছে, এমপি লিটন হত্যায় জড়িত চন্দন ঘটনার ১৫-১৬ দিন পর ভারতে পালিয়ে যান। এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য অস্ত্র চালানো ও হত্যার পর পালিয়ে যাবার প্রশিক্ষণও নেন তিনি। ভারতে আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় শাওন রায় নামে আধার কার্ড তৈরি করেন। এক পর্যায়ে মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। গাইবান্ধা ও রংপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে গাঁজা ও ফেনসিডিল পাঠাতেন।
হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন চন্দন। দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে ভারতে পালিয়ে যান। লিটন হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে ৬ জন কারাগারে। এক মাত্র পলাতক আসামি ছিলেন চন্দন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যারা অসৎ উপায়ে পার্শ্ববর্তী দেশে যাবার চেষ্টা করে তারা নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় থাকে। অনেক ক্ষেত্রে নদী ব্যবহার করে। মাদক চোরাচালানকারী ও দালাল চক্র যার রয়েছে তাদের সহযোগিতায় চন্দন দেশ থেকে পালিয়ে ছিল।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিজ বাসায় গুলি করে হত্যা করা হয় তৎকালীন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে। পরে এঘ টনায় লিটনের বোন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ২৮ নভেম্বর বিচার কাজ শেষে ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।









