দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পর্যন্ত উন্নয়ন পৌঁছায় না বলে দাবি করেছেন পরিবেশবিদরা।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা বলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা ফলাফল প্রকাশে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট- সিপিআরডি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবিদরা বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বেশি ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। এই পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকার পরিবর্তন আসছে। দুর্যোগে বেশিমাত্রায় বঞ্চনার শিকার হন নারীরা।
তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন, বেকারত্ব- দারিদ্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, সামাজিক অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রমও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গবেষণা ফলাফলগুলো বাংলাদেশে সফররত ইউএনএইচসিআর-এর জলবায়ু ও মানবাধিকার দূত ড. ইয়ান ফ্রাইকের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানান বক্তারা।
বাংলাদেশের ৩টি অঞ্চল— মোংলা, রাজশাহী ও শরীয়তপুরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এই গবেষণা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, আকস্মিক দুর্যোগ, লবণাক্ততার কারণে এসব অঞ্চলের ২০০টি পরিবার ৯ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার প্রত্যক্ষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এছাড়া, তারা স্বাস্থ্য সংকট, বাস্তুচ্যুতি, সামাজিক ও যৌন হয়রানি, পানি সংকট, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, সহিংসতা, মানসিক বিপর্যয়, ক্যান্সারসহ নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন— সিপিআরডির নির্বাহী প্রধান সামসুদ্দোহা, বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, বাদাবন সংঘের নির্বাহী প্রধান লিপি রহমান, এসডিএস নির্বাহী প্রধান রাবেয়া বেগম প্রমুখ।








