দেশের বর্তমান প্রচলিত হিন্দু আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ। একটি মহল হিন্দু আইন পরিবর্তন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। যদি সরকার ও সুবিধাভোগী মহলটি অতি উৎসাহী হয়ে হিন্দু আইন পরিবর্তনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত না হয়, তাহলে তারা যেকোনও উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী থাকবে।
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। হিন্দু আইন সংস্কারের নামে হিন্দু ধর্মীয় তথা শাস্ত্রীয় বিধিবিধান সংবলিত ‘পার্সনাল ল’ পরিবর্তন বা সংস্কার করার চক্রান্তের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সনাতন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায় বলেন, প্রচলিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইন (পার্সোনাল ‘ল’) বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন করা হলে হিন্দু নারী ও হিন্দু সম্পত্তি উভয়ের বিপদাপন্নতা অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। তারপরও যদি সরকার ও সুবিধাভোগী মহলটি অতি উৎসাহী হয়ে হিন্দু আইন পরিবর্তনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত না হয়, তাহলে তারা যেকোনও উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী থাকবে।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেছেন, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক সমস্যা রয়েছে। সেসব সমস্যার সমাধান না করে সরকার ও একটি মহল হিন্দু আইন পরিবর্তন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। শাস্ত্রীয় বিধানের জন্য সম্প্রীতিপূর্ণ পারিবারিক বন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায় শান্তিতে ঘরসংসার করে আসছে। তাই প্রচলিত হিন্দু আইন পরিবর্তন করে এ-সংক্রান্ত নতুন আইনের কোনও প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর ডিআরইউতে এক আলোচনা সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের আরেকটি অংশ বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের নেতারা দাবি করেন, দেশের প্রচলিত হিন্দু আইনে নারীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। ছেলেরা বাবার সম্পত্তি পেলেও মেয়েরা পায় না।
তাদের বক্তব্য, সম্পত্তিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের নিরঙ্কুশ উত্তরাধিকার না থাকা, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও অধিকার না থাকা, শত নির্যাতনেও বিচ্ছেদের বিধান না থাকার মতো বৈষম্য দূর করতে দেশে প্রচলিত হিন্দু আইনগুলো সংস্কার করতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথও হিন্দু আইন সংস্কারের পক্ষে মত দেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথকে সেদিনের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি এবং এর নিন্দা জানায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদ। একই সঙ্গে হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি দে প্রমুখের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী জে কে পাল, আইনজীবী প্রবীর হালদার, আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী প্রমুখ।









