জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের চিত্রকর্ম আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুজনকে আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ (সমন) দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন, রুমা চৌধুরী এবং তার সাবেক স্বামী পুস্তক ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সাহা।
রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়া প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। এর আগে,গত ২৯ জুন প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালে হুমায়ূন আহমেদ ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় অবস্থানকালে অবসর সময়ে পুত্র নিষাদকে নিয়ে বেশকিছু ছবি এঁকেছিলেন। সে সময় রুমা এবং বিশ্বজিতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় তার। এরই সূত্র ধরে হুমায়ূন আহমেদ তার আঁকা ২৪টি ছবি প্রদর্শনীর উদ্দেশে আসামিদের ২০১২ সালের জুন মাসে দেন। শর্ত ছিল, প্রদর্শনী শেষে তারা সেই ছবিগুলো ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু আসামিদের উদ্দেশ্য ছিল ছবিগুলো বিক্রি করে কমিশন লাভ করা ও পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিক্রি করে আত্মসাৎ টাকা করা। তারা হুমায়ূন আহমেদকে বারবার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা শোনেননি। ছবিগুলো বিক্রি করার জন্য নয়, নিজের ও পুত্র নিষাদের আনন্দের জন্য এঁকেছেন বলে আসামিদের জানিয়ে দেন হুমায়ূন আহমেদ। তার মৃত্যুর পর মেহের আফরোজ শাওন সন্তানসহ দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে শাওন আসামিদের কাছে ছবিগুলো ফেরত চাইলে তারা টালবাহানা শুরু করে। উপায়ান্তর না পেয়ে শাওন বিষয়টি তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের জানিয়ে সহযোগিতা চান। এর ফলশ্রুতিতে রুমা তার সাবেক স্বামী বিশ্বজিৎকে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজের মিরপুরের পল্লবীর বাসায় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪টি ছবির মধ্যে ২০টি ফেরত দেন। বাকি ৪টি ছবি ফেরত না দিয়ে আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন।









