লালবাগের শহীদনগর থেকে বিজিবি সেকশন পর্যন্ত আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লা উঠিয়ে পাহাড়ের মতো উঁচু করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা না সরানোয় রাস্তায় চলাচলের সময় ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী এবং লালবাগ, বিজিবি সেকশন ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিজিবি সেকশন থেকে লালবাগ বেড়িবাঁধ অংশে ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার পরিষ্কার ও খননের কাজ করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শহীদনগর জোড়া ব্রিজ থেকে বিজিবি হাতিঘাট অংশ পর্যন্ত পুরো খালের দুই পাড়ে ময়লা উঠিয়ে পাহাড়ের মতো উঁচু রাখা হয়েছে। ময়লা গড়িয়ে কোথাও কোথাও সড়কেও চলে আসতে দেখা গেছে। বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে ময়লার দুর্গন্ধে নাক চেপে চলতে দেখা যায়।
ময়লার স্তূপের পাশের মসজিদ, দোকানপাট ও বাড়িঘরের মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। এতে যান চলাচলও ব্যাহত হতে দেখা যায়। এছাড়া সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ও তাদের নিয়োগকৃত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খননযন্ত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে এই ময়লার স্তূপের পাশে।
দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়ির এক চালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘মাতুয়াইল ভাগাড়ে ময়লার গাড়ি অনলোডিং করতে সমস্যা হওয়ায় ময়লা জমে গেছে।’
লালবাগের শহীদনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুর হোসেন বলেন, ‘জোড়া ব্রিজ এলাকায় খাল থেকে ময়লা উঠিয়ে গত এক মাস ধরে স্তূপাকারে রাখা হয়েছে। তারা কেন জানি ময়লা সরাচ্ছে না। এখানে ময়লা উঠানোর যন্ত্রও ফেলে রেখে গেছে।’ তিনি দ্রুত এসব ময়লা সরানোর দাবি জানান।
একই দাবি জানিয়েছেন বিজিবি সেকশন এলাকার বাসিন্দা মো. রনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ময়লা ২০ দিনেরও বেশি সময় পড়ে আছে। আর দুটি খননযন্ত্র ১০ দিনের বেশি সময় পড়ে আছে। আমরা এই খালের পাড়ের পার্কিং সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়েছি। কিন্তু সিটি করপোরেশনের ময়লার জন্য চালকরা গাড়ি রাখতে পারছেন না। আমরা টাকা আদায় করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভুঁইয়া বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমাদের ভাগাড়ে ময়লা ফেলার জায়গার রাস্তাগুলো স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। যেখানে গাড়ি দাঁড়ায় সেখানে মাটি নরম হওয়ায় ময়লা ফেলতে সমস্যা হচ্ছিল। আজ থেকে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমারা প্রতি রাতে ৫০-৬০ ট্রিপ দিয়ে ময়লা সরাই। প্রতি ট্রিপে ২০-২২ টন ময়লা সরানো যায়। আশা করি তাড়াতাড়ি এর সমাধান হবে।’
ধীরগতিতে চলছে পরিষ্কার ও খনন কাজ
গত ২৯ জুন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপসের উপস্থিতিতে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেলে পরিষ্কার ও পুনর্খনন কাজ শুরু হয়।
সোমবার (১০ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, এই খালে শুধু একটি খননযন্ত্র দিয়ে কাজ হচ্ছে কামরাঙ্গীরচরের রনি মার্কেট এলাকায়। এছাড়া অন্তত চারটি উভচর খননযন্ত্র রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা নেভিগেশনের এক কর্মচারী বলেন, ‘এক মাস ধরে তেমন কাজই হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না, বলতে পারবো না। এটা সিটি করপোরেশন জানে।’
এ বিষয়ে জানতে পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খায়রুল বাকেরকে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।









