বাজার থেকে নিম্নমানের সয়াবিন ও ডালডা কিনে পরবর্তীতে তা মিশিয়ে তৈরি করা হতো ঘি। বিভিন্ন নামিদামি ব্যান্ডের নাম ব্যবহার করে বোতলে করে সরবরাহ করা হতো এসব নকল ঘি। রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে নকল ঘি তৈরিদে জড়িত থাকার অভিযোগে কারখানার মালিকসহ দুজনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষের সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগ।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত গোয়েন্দা বিভাগ ওয়ারীর উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফ হোসেন এ তথ্য জানান।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ডেমরার ডগাইর পূর্বপাড়ার একটি বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ।গ্রেফতারকৃত দুজন হলো—মামুন পাইক ও সাব্বির। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নকল নিউ ফ্রেশ গাওয়া ঘি, ফেমাস স্পেশাল গাওয়া ঘি, স্পেশাল বাঘাবাড়ী ঘি ও নকল ঘি তৈরির মেশিন, সয়াবিন তেল এবং ডালডা উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা বিভাগ ওয়ারী’র উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফ হোসেন বলেন, ঘি তৈরির জন্য প্রয়োজন দুধ, অথচ তার বিপরীতে সেখানে পাওয়া যায় নিম্নমানের সয়াবিন তেল ও ডালডা। তারা এভাবে ঘি উৎপাদন করার কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ নকল ঘি উৎপাদন, মজুত, বিক্রয় ও বাজারজাত করা চক্রের সদস্য। এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। নকল ঘি ব্যবহার করে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে তেমনি হার্ট অ্যাটাকের মত মারাত্মক রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, কারখানাটির বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছিল না। রেড কাউ ঘি, ফেমাস স্পেশাল গাওয়া ঘি, নিউ ফ্রেশ গাওয়া ঘি, স্পেশাল বাঘাবাড়ী ঘি এসব প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিয়ে নকল ঘি তৈরি ও সরবরাহ করে আসছিল। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নকল ঘি তৈরি ও সরবরাহ করে আসছিল। কম সময়ে অধিক মুনাফার লোভে তারা এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। কারখানার ভেতরটি ছিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।









